শিরোনামঃ
গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ ০৪-০৬-২০২৩ ০৩:৩৪ অপরাহ্ন |
ফরিদগঞ্জে কচুরিপানার জট পুরো ডাকাতিয়া নদী ঘিরে ফেলায় নষ্ট হয়ে গেছে পানি। কোথাও কোথাও কচুরিপানার জট এতটাই চাপা যে, অনায়াসে এর উপর দিয়ে হেঁটে নদীর এপার থেকে ওপারে যাওয়া যায়। তার উপর জন্মেছে পরগাছা। পানি নষ্ট ও দূষিত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ মরে যাচ্ছে। অথচ সরকার প্রতি বছর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নদীসহ উন্মুক্ত জলাশয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা শহর থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। পুরো নৌপথটি ডাকাতিয়া নদী ও সিআইপি বেড়িবাঁধের ভেতরের অংশে পড়েছে। এক সময়ে ডাকাতিয়া নদীতে নৌযান চলাচল করতো। পাশাপাশি নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকার করে কয়েক হাজার জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করতো।
এ নদীর সুস্বাদু মাছের চাহিদা ছিল দেশের সর্বত্র। ডাকাতিয়ায় এক সময় দেশীয় প্রজাতির বিশেষ করে পাবদা, সরপুঁটি, বোয়াল, শিং, মাগুর, কই, শইল, ফইলা, চিতল মাছ প্রচুর পরিমাণে আহরিত হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত হতো।
সম্প্রতি পুরো নদীটি কচুরিপানার ঝট লেগেছে। কচুরিপানা সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করার কারণে বন্ধ হয়ে যায় নৌপথ। একই সাথে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে নদীর পানি নষ্ট হয়ে মাছ মরে ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে হাজার জেলে পরিবার অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীতে উপজেলা জুড়ে শাখা প্রশাখা রয়েছে। প্রায় সব স্থানে কচুরিপানার ভয়াবহ জটে দূষিত পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হওয়ায় জেলেদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। কচুরিপানা সরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছে মাঝি ও জেলে পরিবারের সদস্যরা। ডাকাতিয়া নদী দূষণমুক্ত রাখা, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা এবং জেলেদের জীবিকা নির্বাহ অব্যাহত রাখতে কচুরিপানা পরিষ্কার করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বলে মনে করেন মৎস্যজীবীরা।
উপজেলা ধানুয়া ও গাজীপুর এলাকার জেলে স্বপন কৃষ্ণ দাস (৪৫), তপন দাস (৬০), হারাধন দাস (৪৮) আলমগীর (৪০) সহ বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার জেলে ও মৎস্য চাষী এ নদীতে মাছ শিকার করে এক সময় পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানার কারনে মাছ শিকার করতে পারেন না তারা। এতে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কচুরিপানা সরালে পূর্বের ন্যায় আবারো তারা মাছ শিকার করতে পারবে।
নৌপথে ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝি মো. ইব্রাহিম (৬০), আব্দুল খালেক (৫২), ফারুক হোসেন মাঝি-সহ কয়েকজন জানান, শতাধিক নৌকা এ পথে চলাচল করলেও কচুরিপানার কারণে এখন তাঁরা নৌকা চালানো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। নৌপথটি পুনরুদ্ধার হলে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন ব্যবসায়ীক মালামাল তারা কম খরচে পরিবাহন করতে পারবে এ অঞ্চলের মানুষ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা বলেন, এ উপজেলাতে এক সময়ে মাছ উদপাদনে অনেক সুনাম ছিল। কিন্তু এখন ডাকাতিয়া নদীতে কচুরিপানার কারনে এখন আর মাছ চাষ করা যায়না। মাছ চাষের উপযোগী করতে কচুরিপানা অপসার করা প্রয়োজন। তিনি অনেকবার উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া