শিরোনামঃ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: ১৪-০৬-২০২৩ ০৮:৩৬ অপরাহ্ন |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আন্দোলন করছি। অচিরেই এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
খালেদা জিয়ার শরীরে রোগের জীবাণু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (১৪ জুন) বিকেলে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল ঘোষিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে আটক করে সাজা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। শুধু আটক করা হয়নি তার উপর জুলুম করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। আমরা জানি না তার শরীরে রোগ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে কি না। কেননা আজকে তিনি যে রোগে আক্রান্ত তা ওনার হওয়ার কথা নয়। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে বিদেশে নির্বাসনে রাখা হয়েছে তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। যেই দেশে একটি রাজনৈতিক দলের ৪০ লক্ষ নেতাকর্মী মামলায় জড়িয়ে আছে জর্জরিত হয়ে। সেই দেশে গণতন্ত্র থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকার ভিসা নীতির পর খুব বড় বড় কথা বলে আওয়ামী লীগ। আমরা ভয় পাই না বলে। আসলে তারা এমন ভয় পেয়েছে যে তাদের হাঁটু কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেছে। আজকে দেশকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে তারা। যে অবস্থা বাংলাদেশকে জনগণ চায় না। সবকিছু লুটপাট করে খেয়ে নিয়েছে। বিদেশে পাচার করেছে। তারা বলেছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবে। এখন বিদ্যুৎ নেই। আজকে আমাদের কৃষক, দিনমজুর ভাইয়েরা বাজারে যেতে পারেন না। বাজারে জিনিসপত্রের দামে আগুন। চাল, ডাল, সবজি, লবণ, চিনি, মুরগি, ডিম সবকিছুর দামে বেড়েছে। আজকে মোবাইলে ১শ টাকা ঢুকালে ৩০ টাকা কেটে নিয়ে যায়। প্রি-পেইড মিটারে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ৩শ টাকা কেটে ফেলে। এসব টাকা আওয়ামী লীগের পকেটে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের ঘরে যাচ্ছে। তারা আপনার আমার পয়সা দিয়ে নিজেদের উন্নয়ন করছে। আজকে দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ভালো নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, চট্টগ্রামে সুড়ঙ্গের মতো কর্ণফুলী টানেল করেছে। মেগা প্রকল্প। ভালো কথা। দরকারও আছে। কিন্তু আগে আমাকে বাঁচতে হবে। দেশের মানুষকে বাঁচতে হবে। তারপর উন্নয়ন। আগে তো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে, আগে খাবার নিশ্চিত করতে হবে, আগে চাকরি পাবার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারপর উন্নয়ন। আজকে দেশের মানুষ ভালো নেই। চাকরি নাই, ব্যবসা নাই। আমদানি নাই। ডলার নাই। সব ডলার পাচার করে দিয়েছে। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা বলছেন তাদের ৪২ ভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারখানা বাড়া দূরের কথা। আগেরগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেউই ভালো নাই দেশে। তারা (সরকার) বলে দেশের মানুষ নাকি খুব ভালো আছে। বলে এই কারণে তারা তো ভালো আছে। আওয়ামী লীগের সাথে যারা জড়িত তারা ছাড়া কেউই ভালো নেই। তারা দেশের মানুষের পকেট কেটে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। নিজেদের ছেলেমেয়েদের পাঠিয়ে দিচ্ছে বিদেশে। তারা ব্যাংক চুরি করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে। এরকম চোর যদি দেশে ক্ষমতায় একদিনও থাকে তাহলে দেশের ক্ষতি হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আজকে ১৫টা বছর তারা এগুলো করছে। আর আমরা দেশের মানুষ তাদের নির্যাতনে নিপীড়িত হচ্ছি। শোষিত হচ্ছি। তারা আমাদের অনেককে গুম করেছে। ইলিয়াছ আলীকে গুম করেছে। আজ ১২টা বছর কোনো হদিস মেলেনি তার। অনেককে খুন করা হয়েছে, ফাঁসি দেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। জেলে দিয়ে নির্যাতন করেছে। এমন কোন নেতা নাই যার নামে মামলা নাই। ডজনে ডজনে মামলা দিয়েছে একেকজনের নামে। সারাদেশে ৬০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কোথাও কোন শান্তি নাই। স্বস্তি নাই। প্রতি পদে পদে আমাদের গলা টিপে ধরেছে সরকার। এই দেশ কি আমরা চেয়েছিলাম ৷ দেশ যখন স্বাধীন হয় তখন মুক্তিযোদ্ধারা কি এই দেশ চেয়েছিলেন? আমরা চেয়েছিলাম একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আমাদের ভোট আমরা দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, আমরা কথা বলতে পারব, মতামত দিতে পারব। সরকারের সমালোচনা করতে পারব। আমরা লিখতে পারব। আর আজকে সাংবাদিকরা লিখতে পারেন না৷ তাদের গলায় ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা লিখলে গ্রেপ্তার হয়ে যাবে, গুম হয়ে যাবে। জেলে ভরে দেবে। তারপর কারাগারে কাটাতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেতে পারি না৷ আমরা আদালতে যেতে পারি না৷ গেলেই আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মিথ্যা, গায়েবি মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়৷ কোন বিচার হয় না৷ এরপর আমরা উচ্চ আদালতে যাই জামিন নিয়ে আসি। আবার নিম্ন আদালতে আসলে জামিন বাতিল করে জেলে পাঠানো হয়। আবার এখানে শেষ হয় না। জামিন নেয়ার পর বলা হয় আরেকটা মামলা দিয়ে দাও। এ চিত্র সারাদেশে বিরাজমান।
সরকারকে কাপুরুষ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, তারা খুব বড় বড় কথা বলে। আমরা ক্ষমতায় যাব। কীভাবে যাবে ক্ষমতায়? ওই ১৪, ১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করে? আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, আপনাদের খেলা শেষ। আওয়ামী লীগের খেলা শেষ হয়ে গেছে। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না৷ আমরা জনগণকে ক্ষমতায় নিতে চায়। আমরা ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। এই তরুণ সমাজ আজকে শুধু বিএনপির ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে না, তারা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে লড়াই করছে।
সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গাজীপুরে জাহাঙ্গীরের মায়ের কাছেই হেরে গেছে আওয়ামী লীগ। বরিশালে বুঝে গেছে যে হেরেই যাবে। তখন চরমোনাইকে মেরে ধরে নিয়ে ফেলেছে। সম্মানিত মানুষ চরমোনাই পীর সাহেব। তাকেও মারতে তারা দ্বিধা করেনি। রক্তাক্ত করেছে। সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে।
নগরীর কাজির দেউড়ি মোড়ে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান মাহমুদ টুকু।
এতে প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ ভুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুরের রহমান শামীম।
বিশেষ বক্তা ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল যৌথ সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহব্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও চট্টগ্রাম বিভাগের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া