বিদেশী ৪৭ প্রজাতির রঙিন আম চাষে সাফল্য হেলাল উদ্দিনের
০৭ মে, ২০২৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

  

বিদেশী ৪৭ প্রজাতির রঙিন আম চাষে সাফল্য হেলাল উদ্দিনের

শামসুল আলম জুয়েল
০৫-০৮-২০২৩ ০৪:২৫ অপরাহ্ন
বিদেশী ৪৭ প্রজাতির রঙিন আম চাষে সাফল্য হেলাল উদ্দিনের

এক, দুই নয় ৪৭ প্রজাতির বিদেশী আম চাষ করছেন সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন। তা ও সেটি আবার পরিত্যক্ত ইটভাটায় বালুর মধ্যে। এছাড়াও তার এ প্রকল্পে চাষ করা হচ্ছে বিদেশী অর্ধ শতাধিক জাতের ফল গাছ।

ফ্রুটস ভ্যালি এগ্রো নামের এই প্রকল্পে সম্পূর্ন অর্গানিক পদ্ধতিতে বিদেশী ফল চাষের সাফল্য ইতোমধ্যেই সর্বত্র সাড়া জাগিয়েছে। এবার প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ৪৭ জাতের বিশ্বখ্যাত আম চাষ করে।

এরমধ্যে ৩৭ প্রজাতির আম গাছে এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে। মাত্র আড়াই একরের এই প্রকল্পের একাংশে গাছে ঝুলছে রং-বেরংয়ের নতুন নতুন জাতের নানা ধরনের আম।

যা দেখতে প্রতিদিন সারা দেশ থেকে শত শত দর্শনার্থী এখানে আসছেন। ইটভাটার বালুর মধ্যে এমন ব্যাতিক্রমী ফল চাষ করে আলোচনায় উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। সরেজমিন বাগানটি পরিদর্শন করে দেখা যায় প্রকল্পের এক পাশে এখনও স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে ইটভাটার ১২০ ফুট দীর্ঘ চিমনি।

প্রায় ৬৩ বছরের পারিবারিক ইটভাটা বন্ধ করে হেলাল উদ্দিন গড়ে তুলেন বিদেশী ফলের বাগান। আশপাশে পরিবেশদূষনকারী একাধিক ইটভাটা থাকায় প্রকল্পের ফল চাষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফ্রুটস ভ্যালি এগ্রো প্রকল্পের উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, "প্রকল্পটিতে এমন সব বিদেশী ফল চাষ হচ্ছে যা এদেশে অপ্রচলিত এবং উচ্চ মূল্যের। বিশ্বের বিভিন্ন আবহাওয়া থেকে সংগ্রহ করা এসব ফলের জাত বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়। সব ক্ষেত্রেই সফল হওয়া যায় না।

যেসব জাতের ফল এদেশের আবহাওয়ায় সফল ফলন হয় সে সব জাত সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বখ্যাত উচ্চ ফলনশীল বহু জাতের নতুন ফল এদেশে বানিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হচ্ছে। এরফলে দেশ উপকৃত হচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অনেক ফলই এখন রফতানি করা হচ্ছে। প্রকল্পটির বয়স মাত্র আড়াই বছর হয়েছে।

এ বছর প্রকল্পটি আলোচনায় এসেছে অসংখ্য বিদেশী রঙিন জাতের আম চাষ করে। উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিনের দাবি, বিশ্ব সেরা ২০টি আমের মধ্যে ১৭টিই ফ্রুটস ভ্যালি এগ্রোতে রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম কয়েকটি হচ্ছে, সুপার লেট ভ্যারাইটির অস্টিন, অস্টিন গোল্ড, কেইট, কিট, পালমার (ফ্লোরিডা), বেইলিমার্বেল, ভেলেন্সিয়া প্রাইড, হেডেন।

এসব ক’টিই উচ্চ ফলনশীল রেয়ার জাত। এ ছাড়া আলফানসো, নামডকমাই সিমওয়াং, মায়া, টমি এটকিনস, আতাউল্ফ, কারাবাউ, কিং অব চাকাপাত, মিয়াজাকি, রেড আইভরি, থ্রি টেস্ট, আরটুইটু, কেনসিংটন প্রাইড, মহাচানক ইত্যাদি অন্যতম। এই আম বাগান দেখতে প্রতিদিন শতশত পর্যটক আসছেন এই ফ্রুটস ভ্যালি এগ্রোতে।

চারা রোপনের মাত্র দুই থেকে আড়াই বছরের মাথায় নতুন প্রজাতির সুপার লেট ভ্যারাইটির অস্টিন গোল্ডসহ আরও কয়েকজাতের আম গাছে এবার ব্যাপক ফলন শুরু হয়েছে। কোন ধরনের কিটনাশক, বালাইনাশক ব্যাবহার না করায় অধিকাংশ আমের চেহারা সুন্দর নয়।

এছাড়া বিলুপ আবহাওয়ায় ফলন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানালেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আবদুর রশিদ।

তিনি জানান, বাগানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে শীতকালেও আম পাওয়া যাবে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আর দুই থেকে তিনমাসের মধ্যেই এসব আম পাকতে শুরু করবে। মিয়াজাকি, নামডকমাই, কাটিমন, মহাচানক, বারি-৪, ক্যাংসিনটন প্রাইড, কিং অব চাকাপাত, রেডআইভরি, এসব আম প্রতিকেজি জাত ভেদে আড়াইশ’ থেকে ৪শ’ টাকা।

এছাড়া বিক্রি হচ্ছে লাল, গোলাপী এবং ক্ষয়েরী ড্রাগন ফল। সব চেয়ে আকর্ষণীয় আইসিস জাতের হলুদ ড্রাগন। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এই ড্রাগন খুবই মিষ্টি এবং সুস্বাদু বলে জানা গেছে।


শামসুল আলম জুয়েল ০৫-০৮-২০২৩ ০৪:২৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 219 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া