শিরোনামঃ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: ০৪-১০-২০২৩ ০৫:১৯ অপরাহ্ন |
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল আগামী ২৮ অক্টোবর (শনিবার) উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে এ মেগা প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে। টানেল উদ্বোধনকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। টানেলের দুই প্রান্তকে সাজানো হচ্ছে অপরূপভাবে।
টানেল উদ্বোধন শেষে আনোয়ারার কেইপিজেড'র পাশের মাঠে সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।
সম্প্রতি পতেঙ্গা টানেল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে টানেল। প্রবেশ পথে নৌবাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। টানেল নির্মাণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পতেঙ্গা থেকে টানেলের প্রবেশমুখ পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে উদ্বোধনী ফলক। যেটি উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত টানেলটি উদ্বোধন করবেন। এছাড়া টানেল এলাকাকে সাজানো হচ্ছে মনোরমভাবে। টানেলে দুটি মুখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় অপরটি আনোয়ারা প্রান্তে। দুই প্রান্তে দূর থেকে একনজর দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে।
টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ‘যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত মূল টানেল। আগামী ২৮ অক্টোবর এটির উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এখন টানেলের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টানেলের সুরক্ষার জন্য দুই পাশে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ফাঁড়ির ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ চলছে। টানেল প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ। ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টানেলে নিরাপত্তায় ১শ টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। টানেলে চলাচলকারী গাড়ির গতিবেগ প্রথম দিকে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি হবে না। পায়ে হেঁটে টানেল পার হওয়া যাবে না। একইভাবে মোটরসাইকেল এবং তিন চাকার যানবাহনও চলাচল করবে না টানেল দিয়ে। নির্ধারিত ওজনের বেশি ভারী যানবাহন এ টানেল দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না। এজন্য টানেলের প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয়েছে ওজন স্কেল। পরিমাপের পর বেশি হলে ওই যানবাহনকে পার হতে দেওয়া হবে না। কোন যানবাহন থেকে কী ধরনের টোল নেওয়া হবে তা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করে ফেলেছে মন্ত্রণালয়।’
গত ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ২৮ অক্টোবর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন পতেঙ্গা প্রান্তে টানেল এর উদ্বোধন করা হলেও আনোয়ারা প্রান্তে হবে সুধী সমাবেশ। এতে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন।”
এসময় মুখ্য সচিব আরও বলেন, ‘এ টানেল শুধু দুই পাড়কে সংযুক্ত করেনি, ওয়ান সিটি টু টাউন কনসেপ্ট তা বাস্তবায়িত হয়েছে। তিন দশমিক ৩২ কিলোমিটারের টানেলটি তিন মিনিট থেকে সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পার হওয়া যাবে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ১৮ থেকে ৩১ মিটার নিচে এ টানেল দিয়ে মানুষ চলাচল করবে। এটার সঙ্গে কক্সবাজারের যোগাযোগ অনেক সহজ হবে।’
এদিকে টানেলের এক প্রান্তে (পতেঙ্গা) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এরিয়া এবং অপর প্রান্ত (আনোয়ারা) জেলা পুলিশের সীমান্ত। সে অনুযায়ী টানেলের অর্ধেক সিএমপির এবং অর্ধেক জেলা পুলিশের অধীনে। সিএমপি এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দুই পাড়ে থানা প্রয়োজন। তবে টানেল কর্তৃপক্ষ পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ভবন নির্মাণ করছে।
এ প্রসঙ্গে সিএমপির এডিসি (পিআর) স্পিনা রাণী প্রামাণিক বলেন, ‘টানেল সুরক্ষা দিতে দুই পাড়ে দুটি থানা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতরে এ প্রসঙ্গে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পতেঙ্গা প্রান্তে প্রস্তাবিত থানাটির জন্য ৮১ জন জনবল চাওয়া হয়েছে। সদর দফতর কত জনবলের অনুমোদন দেয় তা দেখার বিষয়। কবে থেকে এ থানার কার্যক্রম শুরু হবে তা অনুমোদন পাওয়ার পর জানা যাবে।’
গত ১৩ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে। যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী টোল হার চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেতু বিভাগ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল চালু হলে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এক ধাপ এগিয়ে যাবে। টানেল চালু হলে চট্টগ্রাম নগরীর পরিধি বাড়বে। টানেলের এক প্রান্তে চট্টগ্রাম শহর। অপর প্রান্তে রয়েছে আনোয়ারা উপজেলা। শহরের খুব কাছে থাকলেও এ উপজেলা এতদিন অবহেলিত ছিল। টানেল নির্মাণের মধ্য দিয়ে আরেকটি শহরে রূপ নিচ্ছে আনোয়ারা। ইতোমধ্যে আনোয়ারা উপজেলায় জমির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আনোয়ারা উপজেলা প্রান্তে টানেল সংযোগ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠছে ছোট-বড় অসংখ্য শিল্পকারখানা। টানেল চালু হলে কর্ণফুলী নদী পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র তিন মিনিট। বেঁচে যাওয়া সময়ে অর্থনীতি গতি পাবে। টানেলকে ঘিরে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরী এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’
প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে টানেলটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মূল টানেলের দৈর্ঘ্য তিন দশমিক ৩২ কিলোমিটার। চার লেন বিশিষ্ট দুটি টিউবের প্রতিটির দৈর্ঘ্য দুই দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। গত বছরের ২৬ নভেম্বর টানেলের দক্ষিণ প্রান্তের একটি টিউবের পূর্তকাজের সমাপ্তি উদযাপন করা হয়েছে। এই উদযাপন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়া মূল টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে পাঁচ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ফ্লাইওভার থাকবে।
২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল আট হাজার ৪৪৬ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১০ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক দুই শতাংশ সুদে পাঁচ হাজার ৯১৩ দশমিক ১৯ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া