শিরোনামঃ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: ২৭-১০-২০২৩ ১১:৩৩ অপরাহ্ন |
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম যোগাযোগ পথ-টানেল এখন উদ্বোধনের জন্য প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শনিবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর নদীর তলদেশ দিয়ে রোমাঞ্চকর যাত্রার স্বাদ নিতে পারবেন জনসাধারণ। ধীরে ধীরে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ হিসেবে গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম।
টানেলের উদ্বোধনকে ঘিরে কর্ণফুলী নদীর দুই পারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, তোরণ স্থাপন করা হয়েছে টানেলের দুই প্রান্তেই।
টানেলের নগর প্রান্ত পতেঙ্গায়। নদীর তলদেশ দিয়ে এই টানেল মিলিত হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সিইউএফএল ও কাফকোর মাঝবরাবর এলাকায়।
টানেলের উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের টানেল এবং এর সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখানো হয়। পতেঙ্গা প্রান্তে দেখা যায়, টানেলের প্রবেশমুখের ডান পাশে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামফলক প্রস্তুত। নিরাপত্তার জন্য টানেলের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে সব প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, এই টানেল চট্টগ্রাম নগরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা বদলে দেবে। মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়ার পর টানেলের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসিএল)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি টানেলের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন।
দুই দফা ব্যয় সংশোধন করে এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। টানেলের ভেতরে থাকা দুটি টিউব বা সুড়ঙ্গের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার করে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানেলে কোন কোন যানবাহন চলবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দিয়ে থ্রি হুইলার ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না।
এ ছাড়া, ১২ ধরনের যানবাহনের জন্য টোলহার প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত শাহ আমানত সেতুর বিবেচনায় টানেলের এই টোলহার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, টানেলে সেতুর তুলনায় আড়াই থেকে ছয় শতাংশ বেশি টোল প্রস্তাব করা হয়েছে। টানেলের টোল কালেকশনে আনোয়ারা প্রান্তে স্থাপন করা হয়ে প্লাজা। যেখানে একসঙ্গে ১৪টি যানবাহন টোল দিতে পারবে।
সেতু কর্তৃপক্ষের নির্ধারণ করা টোল অনুযায়ী, টানেলে প্রাইভেটকার ও জিপ চলাচলে দিতে হবে ২শ টাকা, মাইক্রোবাস ২৫০ টাকা, পিকআপ ২শ টাকা, ৩১ বা তার চেয়ে কম সিটের বাস ৩শ টাকা এবং ৩২ বা তার চেয়ে বেশি আসনের বাস চলাচলে দিতে হবে ৪শ টাকা।
পাঁচ টন ধারণক্ষমতার ট্রাক থেকে টানেলে টোল নেওয়া হবে ৪শ টাকা, পাঁচ থেকে আট টনের ট্রাকে ৫শ টাকা এবং আট থেকে ১১ টনের ট্রাক থেকে ৬শ টাকা টোল আদায় করা হবে।
এ ছাড়া, তিন এক্সেল পর্যন্ত ট্রাক চলাচলে টানেলে টোল দিতে হবে ৮শ টাকা এবং চার এক্সেল পর্যন্ত ট্রেইলারকে এক হাজার টাকা এবং চার এক্সেলের বেশি হলে প্রতি এক্সেলের জন্য ২শ টাকা করে বেশি দিতে হবে।
টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশিদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ১শ বছর লাইফটাইমে এই টানেল তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পাঁচ বছর মেইনটেন্যান্স ও অপারেশন করবে চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিসিসি। উদ্বোধনের পরদিন সকাল থেকে টানেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে আপাতত তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেল চলবে না। কেউ হাঁটাহাঁটিও করতে পারবেন না টানেলে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া