কৃষিমন্ত্রী হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন : রিজভী
২১ জুন, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ন

  

   শিরোনামঃ

কৃষিমন্ত্রী হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন : রিজভী

এমএ শাকুর, বিশেষ প্রতিনিধি
১৮-১২-২০২৩ ০৬:৫০ অপরাহ্ন
কৃষিমন্ত্রী হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন : রিজভী
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 'বিএনপি ভোটে এলে সব নেতাকর্মীকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে'- কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ মিথ্যা সাজানো মামলায় জেলে রেখে এবং বাড়ি-ঘর ছাড়া করার গোমর ফাঁস করেছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সিট ভাগাভাগির উদ্ভট তামাশার নির্বাচনকে নির্বিঘ্নে কণ্টকমুক্ত করার জন্যই বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জেলে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চিন্তা ভাবনা করেই এই কাজ করেছি। তাদের জেলে না ভরলে দেশ অচল হয়ে যেত। হরতালের দিন গাড়ি চলত না।

তিনি আরো বলেন, কৃষিমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড করে পুলিশ তাণ্ডব-হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চলমান যত সহিংসতা-মিথ্যা মামলা-গ্রেপ্তার-হুলিয়া-হত্যা-বিএনপিসহ বিরোধী দলের বাড়ি-ঘরে হামলা- তল্লাশি- ভাঙচুর- গৃহছাড়া- আটক- বাণিজ্য সব কিছু শেখ হাসিনার পূর্বপরিল্পিত।

রিজভী বলেন, শেষ পর্যন্ত এই প্রভাবশালী মন্ত্রী হাটে হাঁড়ি ভেঙে স্বীকার করলেন- দেশের আইন-আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-প্রশাসন, কোট-কাঁচারি, বিচার-আচার সব কিছুই আওয়ামী মাফিয়া সরকারের হাতে বন্দি। বিচার ব্যবস্থা আর আওয়ামী লীগ একাকার হয়ে গেছে। পৃথক কোনো স্বত্তা নেই, দেশে কোনো আইন নেই… সব কিছু শেখ হাসিনার ইশারায় চলছে।

বিচার বিভাগ আইনের গতিতে চলছে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিচার বিভাগ আইনের গতিতে নয়, চলছে গণভবনের গতিতে, শেখ হাসিনার নির্দেশ মতো গতিতে।

তিনি এর মোমেন্টামটা ধরে রেখেছেন…গণভবন যে গতিতে যাবে, যেভাবে বলবে, বিচার বিভাগের গতি তাই থাকবে। অমুককে কারাদণ্ড দিন, অমুককে এত বছরের জেল দিন… এগুলো সবই যেভাবে গণভবণ থেকে যাচ্ছে… সেভাবেই হচ্ছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে কার্যত আওয়ামী লীগের একটি ইউনিটে পরিণত করা হয়েছে। পরীক্ষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের, খুন-সন্ত্রাসের আসামিদের বেছে বেছে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে গত ১৫ বছর ধরে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে।

স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনের আওয়ামী নমুনা কৃষিমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে। ২০ হাজার নির্দোষ নেতাকর্মীকে নির্বিঘ্নে নির্বাচন করতে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারা দেশের নির্দোষ নেতাকর্মীদের কারাগারে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। জামিনের অধিকারও খর্ব করা হয়েছে। এই শেখ হাসিনা চাইলে গ্কৃরেপ্ততারদের এক রাতেই ছেড়ে দিতে পারেন।

তিনি বলেন, ২০ হাজার নিরপরাধ নেতাকর্মীকে নির্জলা মিথ্যা মামলায় নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা এবং সরকারের সাথে সমঝোতা করলে এক রাতেই মুক্তি দেওয়া কোনো গণতান্ত্রিক দেশে, কোন আইনের শাসনের দেশে এমনকি ডিক্টেটর শাসিত অনেক দেশেও সম্ভব নয়। এতে এটা প্রমাণ হয় বর্তমান আওয়ামী মাফিয়া সরকার পৃথিবীতে সর্বোচ্চ জুলুমের এক অদ্ভুত স্বৈরতান্ত্রিক এবং একনায়কতন্ত্রিক সরকার। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় এই সরকারকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গতকাল দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রতিথযশা সাংবাদিক ও লেখক এম জে আকবর বাংলাদেশে এসে গতকাল এক সেমিনার শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিশিরাতের ভোট ডাকাত, ১৫ বছর বন্দুকের নলের মুখে জনগণের ঘাড়ে দৈত্যের মতো চেপে বসা গণবিচ্ছিন্ন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে স্তুতি আর প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছেন।

'তার বক্তৃতা শুনে তার সম্পর্কে যারা অবগত তারা রীতিমতো বিস্মিত-হতবাক হয়েছেন। এম জে আকবর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মুক্তি সংগ্রামের নেতা। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দেখছি, তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে। শেখ হাসিনা জাতিকে শুধু উন্নয়নের দিকে নয়, চারটি মাত্রাবিশিষ্ট আধুনিকতার দিকে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে যারা নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখাচ্ছে, তারা ভুলে যাচ্ছে যে বাংলাদেশ এখন ভীতু দেশ নয়। ভয় দেখালেই ভয় পাবে, এটা কাজে দেবে না।’ এছাড়া তিনি আরও বলেছেন যেটিতে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজসহ জনগণ হতভম্ভ হয়েছেন, বলেন তিনি।


এমএ শাকুর, বিশেষ প্রতিনিধি ১৮-১২-২০২৩ ০৬:৫০ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 134 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া