শিরোনামঃ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: ২১-১২-২০২৩ ০৯:৫১ অপরাহ্ন |
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ শেষ হলো। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় নামা শুরু প্রার্থীদের। সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হচ্ছে সরব প্রচারণা। ‘অমুক ভাইয়ের সালাম নিন, এই প্রতীকে ভোট দিন’, ‘মা-বোনদের বলে যাই, অমুক ভাইয়ের তুলনা নাই’এভাবে নানা স্লোগানে উৎসবমুখর হয়ে উঠবে গ্রামের হাটতলা ও বটতলা থেকে শুরু করে হাটবাজার তেপান্তর সবি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনমুখী সাধারণ মানুষ নির্বাচনী উত্তাপের এই আমেজ পেতে আগ্রহভরেই অপেক্ষায় আছে এখন। মিছিল ও সভা-সমাবেশের এই প্রচারণার অন্যতম অনুষঙ্গ ‘মাইক’। সেই ব্যস্ততার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাইক সার্ভিস পেশাদার দোকানিরা বেশ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন এরই মধ্যে। তবে মাইক সার্ভিস পেশার আলোকিত দিক। অন্ধকার দিকও আছে। বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোটামুটি ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় এই পেশার মানুষদের। বাকি সময় অনেকটা নিরুত্তাপ থাকে মাইকপাড়া। যদিও সম্প্রতিকালে এখন কমবেশি সারাবছরই ভাড়া মেলে। পুরোপুরি বর্ষায় যায় শুধু একদম মন্দা।
তবে এবার অন্য বছরের তুলনায় ভালো সময় কাটবে বলেই আশা করছেন মাইক সার্ভিস ব্যবসায়ীরা। আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার মাইকের তুমুল চাহিদা থাকবে বলে আশা করছেন সবাই।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার নূর মাইক সার্ভিসের মালিক নুর উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা পুরোপুরি নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। আশা করি আমাদের মাইকের চাহিদা বেড়ে যাবে। এজন্য দু-চারজন সহকারী নিয়োগ দিয়েছি নির্বাচন উপলক্ষে।’
মিরসরাই সদরের কোর্ট রোড-খ্যাত সড়কে অবস্থিত নূর মাইক। দুটি মাইক নিয়ে যাত্রা শুরু করা নূর মাইক সার্ভিসে বর্তমানে প্রায় ২শ টি মাইক রয়েছে। মিরসরাই উপজেলায় এককভাবে সবচেয়ে বেশি মাইকের মালিক এই নূর মাইকের মালিক। মাইক ব্যবসাটা মূলত মৌসুমভিত্তিক। বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মোটামুটি ব্যস্ত সময় পার করতে হয় এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের। ওয়াজ মাহফিল, সাংস্কৃতিক উৎসব, বার্ষিক পিকনিক এবং পূজা সব মিলিয়ে দম ফেলার ফুরসত মেলে না। বাকি সময় বসেই থাকেন তারা। এ কারণে বেশিরভাগ মাইক সার্ভিসের কর্মীরাও মূলত মৌসুমভিত্তিক কাজ করেন।
উপজেলার মিঠাছরা বাজারের বাহার মাইক ও বেশ প্রসিদ্ধ মাইক দোকানি। বাহার মাইক সার্ভিসের মালিক গীতিকবি বাহার মাসুক বলেন, ‘আমরা ১২০টি মাইক প্রস্তুত রেখেছি। এছাড়া আবুতোরাবের ফখরুল মাইক, রাসেল, আলতাফ মাইক, জোরারগঞ্জের শাওন মাইক, কাটাছরার নওশা মাইক সার্ভিস-সহ প্রতিটি হাটের মাইক দোকানিরা যেন অপেক্ষা করছে কখন থেকে বাজতে শুরু করবে তাদের যন্ত্রগুলো। আর চায়ের দোকানগুলো জমবে আরও এক ধাপ এগিয়ে।
বড়দারোগাহাট কলতান মাইক সার্ভিসের বাসুদেব জানান, আগের মতো নির্বাচনী আমেজ নেই। প্রচারণার জন্য মাইক ভাড়াও তেমন হয় না। আরও বেশি দল নির্বাচনে অংশ নিলে বেশি ভাড়া হতো। তারপরও প্রচারের জন্য মাইক প্রস্তুত রেখেছি। আপাতত সাত সেটা ভাড়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম -১ মিরসরাই আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের নির্বাচনী সেলের অন্যতম সদস্য মাইনুল ইসলাম বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আমরা ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণায় নামছি। মঙ্গলবার থেকে ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় মাইকিং শুরু করা হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, নৌকার প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়। ইউনিয়ন ও পৌরসভায় দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মাইকিং থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রচারণা নিজ নিজ ইউনিয়নের উদ্যোগে হবে।
মাইকের ব্যবহার সম্পর্কে মিরসরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসাইন বলেন, ‘সোমবার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। সোমবার থেকেই প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রচার শুরু করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বেলা ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যেই মাইকে প্রচার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।’
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া