শিরোনামঃ
আলআমিন ভূঁইয়া ১৭-০১-২০২৪ ০৫:৪২ অপরাহ্ন |
চাঁদপুরে শীতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। এতে জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছরই ঠান্ডাজনিত কারণে রোগ বাড়লেও সচেতনতাই পারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে।
প্রতিদিনই অসুস্থ শিশুদের নিয়ে তাদের অভিভাবকরা ছুটছেন হাসপাতালগুলোতে। জ্বর, সর্দি, কাশি ও এ্যাজমা আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যাই বেশি।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের ডায়রিয়া হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শীতে ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুরা রোটা ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। যাদের বয়স ৫ বছরের নিচে তাদের ডায়রিয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১শ’র বেশি শিশু এই হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পেতে ভর্তি হচ্ছে। অনেক অভিভাবক আবার তাদের সন্তানদের নিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেও যাচ্ছেন।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৩৪ জন শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রন্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ২৬১ জন শিশু রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে। অন্যত্র রেফার্ড করতে হয়েছে ২০ শিশুকে। এখন পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে ১১৭ শিশু। এদের বেশিরভাগই ছেলে।
চাঁদপুর মতলব ডায়রিয়া হাসপাতাল সূত্র জানায়, দিনে গড়ে ৪শ থেকে ৫শ রোগী মতলব ডায়রিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যায়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। নতুন বছরের প্রথম দশ দিনে ভর্তি করা হয় ২ হাজার ৩৮০ জন শিশুকে। শীত মৌসুমে গড়ে দৈনিক ২৫০ থেকে ৩শ রোগী ভর্তি হচ্ছে। চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রায় ৩৫টি উপজেলা থেকে প্রতিনিয়ত রোগী আসছে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। দূর থেকে চিকিৎসার জন্য আসা শিশুদের অভিভাবকেরা এখানে চিকিৎসাসেবা পেয়ে সন্তুষ্ট।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: আব্দুল আজিজ জানান, এখন ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুরা সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া রোগে বেশি আক্রান্ত হলেও, অভিভাবকদের সচেতনতাই শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে পারে। সময়মত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোসহ, শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসকের।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. কে. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, শীত আসলে প্রতিবছরই ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আমাদের এই হাসপাতালে শিশু রোগীর জন্য অনুমোদিত আসন রয়েছে মাত্র ৪২টি। তবুও রোগীর স্বজনরা এখানে আসলে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। আমরা শিশুদের যত্ম নিতে ওষুধের পাশাপাশি নানা ধরনের সচেতনতামূলক পরামর্শও দিচ্ছি অভিভাবকদের।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া