শিরোনামঃ
গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ ২৪-০১-২০২৪ ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন |
বছরের পর বছর সড়কের পাশের চরে মাছ চাষ করার কারণে ভাঙনের কবলে পড়লেও হাজার হাজার লোকজনের চলাচলকারী রাস্তাটি মেরামত করে দেয়ার কোন উদ্যোগ নেয়নি মৎস্য ব্যবসায়ীরা। একসময়ে রাস্তাটি দিয়ে গাড়ী চলাচল করলেও ভাঙনের কারণে এখন সাইকেল চালিয়ে পারাপার হওয়া দুষ্কর। গণমানুষের সড়ক খেয়ে ফেলা চরটি আবারো মাছ চাষের জন্য নিলামের আয়োজন হচ্ছে। এমতাবস্থায় সড়কটি রক্ষায় এবং মৎস্যচাষীদের মাধ্যমে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরযুক্ত আবেদন করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গোন্দিপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চররাঘব রায় এলাকার।
জানা গেছে, উপজেলার সোভান বাজার-ভাটিয়ালপুর-হরিনা সড়ক-জয়গঞ্জ ঘাট পর্যন্ত সড়কের গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর চররাঘর রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দক্ষিণ চররাঘব রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় পর্যন্ত সড়কের এক কিলোমিটার সড়কটি ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী সড়ক। সড়কের পশ্চিমপাশে বিশাল জনবসতি রয়েছে, যাতে অন্তত ৫ হাজার লোকের বাস। সড়কের পূর্বপাশে সিংহের চরে দীর্ঘদিন ধরেই মাছ চাষ করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। মাছ চাষের কারণে এক সময়ে গাড়ী চলাচল করা সড়কটি ভেঙে গেছে। এখন সড়কটি দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর। স্থানীয় লোকজন বারংবার মাছ চাষীদের সড়কটি মেরামতের জন্য বললেও তারা কর্ণপাত করছে না।
এমতাবস্থায় আগামী ২৫ জানুয়ারি সিংহের চরটি আবারো মাছ চাষের জন্য নিলাম হবে। তাই সড়কটি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাণেশ্বর দাস, নুরু মিয়া, মিজানসহ বেশ কয়েকজন জানান, চরের অধিকাংশই জমির মালিক গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের বাসিন্দা। জমির মালিকগণকে অধিক লাভের জন্য প্রতিবছর মাছ চাষের জন্য লিজ দেয় চরটি। কিন্তু গণমানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চর ইজাড়াদারতের দায়িত্বহীনতার কারনেমাছে খেয়ে ফেলছে। মাছ চাষের কারণে ব্যপক ভাবে ভাঙনের শিকার সড়কটি মেরামতে কোন পক্ষই উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয় লোকজনের ও ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের খুবই কষ্ট হয়। রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে কোন যানবাহন এই গ্রামে প্রবেশ করতে পারেনা। এমনকি রিক্সা, ভ্যানগাড়ী, অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না।
ইতিপূর্বে চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান আড়াই কিলোমিটার সড়কটির মধ্যে এক কিলোমিটার সড়ক পাকা করণের জণ্য ডিও লেটার দেয়ার পর এলজিইডি সড়কটি পাকা করণে প্রাক্কলন তৈরি করে। চলতি বছর সড়কটির পাকা করণ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে এলজিইডি। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখে এর ব্যয়ভার বেড়ে যেতে পারে এই আশংকায় কাজ হবে কি না এই চিন্তায় রয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যেই আবারো চরের ডাক হবে। আমরা আশংকা করছি এবারের বর্ষায় সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে বিষয়টি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কার জরুরী। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আবরার আহমেদ জানান, চলতি অর্থ বছরে আমরা সড়কের পাকা করনরে কাজ শুরু করবো। মাছে চাষের কারণে সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে লোক পাঠাচ্ছি।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মৌলি মন্ডল, সড়ক ভাঙার অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া