ফরিদগঞ্জে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ সেতুতে উঠা যায়না মই ছাড়া
২৭ মে, ২০২৬ ০৮:২৩ অপরাহ্ন

  

ফরিদগঞ্জে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ সেতুতে উঠা যায়না মই ছাড়া

গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ
০২-০৩-২০২৪ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
ফরিদগঞ্জে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ সেতুতে উঠা যায়না মই ছাড়া

মই বেয়ে সেতুতে উঠলেন, অত:পর স্বামীর মোটর সাইকেলে চড়ে ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতু দিয়ে চলে গেলেন স্বামীর বাড়ি। দৃশটি বেমানান হলেও ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতুর বর্তমান চিত্র এটি। সেতু দিয়ে এখন সিএনজি অটোরিক্সা, অটো বাইক যাত্রী পারপার করলেও সেতুর ফরিদগঞ্জ অংশের শেষ ভায়াডাক্টটির ঢালাইর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেতুটি পারাপারের যাত্রীদের ভরসা মই। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’ এর অবস্থায় দাড়িয়েছে।


২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন পররাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রী বর্তমান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. দিপু মনি এমপি ও চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া যৌথভাবে ডাকাতিয়া নদীর উপর ২৭৪.২০ মিটারের এ সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।


গত বছর সেতুটির চাঁদপুর সদর অংশের কাজ শেষ হলে ওই পাড়ের উদ্বোধন করা হয়। সেতু দিয়ে পারাপার শুরু করেন ডাকাতিয়া দু’পাড়ের যাত্রীরা। সিএনজি, অটোরিক্শা ও মোটর সাইকেল নিয়ে সেতুটির একপাড়ের যাত্রীরা উপর উঠলেও ফরিদগঞ্জ অংশ থেকে সেতুতে উঠা যায়না মই ছাড়া।   


৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার নবারণ টেড্রার্স লি. সেতুটির মূলকাজ নদীর উপরের কাজটি সম্পন্ন করে। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপের কাজের জন্য ২৮ কোটি ৯৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৫৪ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশন ও ইউনুছ আল মামুন (জেবি) যৌথ ভাবে কাজ শুরু করে। নির্মাণকাজের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২১ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বৃদ্ধি করে তা জুন’২০২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পরে তা ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও অদ্যবদি নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।


সেতুটির চাঁদপুর সদর উপজেলার অংশের ভায়াডাক্ট এর কাজ সম্পন্ন হলেও গত ৮ মাসে ফরিদগঞ্জ অংশের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।  এলজিইডি তাদেরকে বারংবার নির্মাণকাজ শেষের জন্য তাগাদা দিয়ে সময় বেঁেধ দিলেও অদ্যবদি ভায়াডাক্ট এর কাজই শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার । এরপর রয়েছে সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজতো রয়েছেই।


সরেজমিন সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সেতুর নির্মাণ স্থানে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর চাঁদপুর সদরের অংশের ভায়াডাক্ট এর কাজ শেষে সংযোগ সড়ক সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু রেলিং এর কাজ হয়নি। অপরদিকে ফরিদগঞ্জ অংশে শেষ ভায়াডাক্টটির রড বাঁধাই হলেও ঢালাই না হওয়ায় সড়কের সাথে সংযোগ হয়নি। ফলে সেতুটি ব্যবহার করা যাত্রীদের মই বেয়ে সেতুকে উঠে গাড়ীতে চড়তে হচ্ছে।


স্ত্রী সন্তান নিয়ে মই বেয়ে উঠে গাড়ীতে চড়া আলাউদ্দিন, শহিদ হোসেন, ইব্রাহিম হোসেনসহ বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, ৭ বছরেও সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারে নি কর্তৃপক্ষ। আর কতদিন লাগবে তাদের সেতুটি যান চলাচল উপযোগি করতে।


শিমুল সর্দার, ইব্রাহিম সর্দারসহ বেশ কয়েকজন জানান, মই বেয়ে উঠতে গিয়ে ইতিমধ্যেই নারীসহ বেশ কয়েক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন কবে যে, বাস্তবে রূপ নিবে তা কেউই বলতে পারছে না।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া নির্বাচনের পর চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে ঝামেলা হয়। ঠিকাদারের লোক ও অবৈধ সুবিধাভোগীদের কারণে আমাদের দুঃখ শেষ হচ্ছে না।


চাঁদপুর এলজিইডির পক্ষে সেতুর দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপসহকারি প্রকৌশলী আইউব খান মুঠোফোন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তীতে চুরি জনিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় শেষের দিকে এসে কাজ থমকে দাড়িয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছু বিল ছাড় হলে তাদেরকে দিয়ে বাকী কাজ শেষ করানো সম্ভব হবে।

 


গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ ০২-০৩-২০২৪ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 187 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া