ফরিদগঞ্জে সেচের পানির জন্য কৃষকদের হাহাকার
০৭ মে, ২০২৬ ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

  

ফরিদগঞ্জে সেচের পানির জন্য কৃষকদের হাহাকার

গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ
০৬-০৩-২০২৪ ০৭:৩১ অপরাহ্ন
ফরিদগঞ্জে সেচের পানির জন্য কৃষকদের হাহাকার

ডাকাতিয়া নদীতে পানি স্বল্পতার কারণে সেচ প্রকল্পের পাম্প হাউজ পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে না পারার খেসারত দিচ্ছে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পভুক্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার বোরো আবাদকারী কৃষকরা। মাঘের শুরুতে পানি পেয়ে কিছু কৃষক ধানের চারা রোপন করলেও এরপর থেকে পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে ঘুরলেও কোন সুরাহা না হয়নি। ফলে সেচ খালে পানি প্রবাহ কম থাকায় কৃষকদের পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। পানির জন্য সামনের অমবশ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে জানিয়েছে পাম্প হাউজের প্রকৌশলী।

জানা গেছে, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প আওতাভুক্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা, বদরপুর, গাব্দেরগাওসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সেচ খালে পানি স্বল্পতার কারণে সেচকাজে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বোরো আবাদের জন্য চারা রোপন করলেও তাতে পানি দিতে পারছেন না। পানির জন্য নিকটবর্তী পুকুর ডোবা থেকে সেচ করে পানি নিয়ে আসছেন। কিন্তু তাতেও পর্যাপ্ত পানি মিলছে না।

পানির জন্য অপেক্ষার পর কৃষকদের পক্ষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বারপাইকা ২ কিউসেক এলপিসি স্কীম খালে পানি সরবরাহের জন্য বারপাইকা ২ কিউসেক এলপিসি স্কীম ম্যানজার প্রফেসর ডা. মোঃ তসলিম উদ্দিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

সরেজমিন মঙ্গলবার (৬ মার্চ) সকালে রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা, বদরপুর ও গাব্দেরগাও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে মাঠে কিছু অংশে চারা রোপন করেছেন। চারা রোপন করলেও পানির অভাবে মাঠ ফেঁটে যাচ্ছে। অন্যদিকে পানির অভাবে কিছু কিছু মাঠে চারা রোপনই করতে পারেন নি কৃষকরা। অন্যদিকে ইচ-১১ খালে পানি আছে নামমাত্র। এই পানি বিএডিসির সেচপাম্প দিয়ে উঠবে না। দ্রুত সেচখালে পানি সরবরাহ না বাড়লে বোরো আবাদে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

কৃষক রফিক, খলিল, আবুল হাশেম, ইউছুপ, সিরাজ, নুরুল আমিন, রুহল আমিন কৃষকরা জানান, খালে পানি নামমাত্র পানি আছে। ফলে সেচ পাম্প দিয়ে গত প্রায় এক মাস ধরে ঠিকমত পানি আসছে না। এতে আমরা বিপদে পড়েছি। বিগত বছরে ধানের আবাদ করে লোকসান দিলেও আবারো ঝুঁকি নিয়ে চারা রোপন করেছি। কিন্তু সেচ পানি না পেলে আমাদের মাথায় বাজ পড়বে। আমাদের হাহাকার শুনবে কে? আমরা পাশ^বর্তী পুকুর ও ডোবা থেকে পানি এনে চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। প্রশাসন আশ্বাস দিয়ে গেলেও কোন কাজ হয়নি।

এব্যাপারে বদরপুর ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, তিনি এপর্যন্ত ১৫ বার এই এলাকায় এসেছেন। পানির জন্য সেচ আবাদ ব্যহত হচ্ছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরবাগাদি পাম্প হাউজের উপ-সহকারি প্রকৌশলী শরীফ মাহমুদ মুঠো ফোনে জানান, ডাকাতিয়া নদীতে পানি স্বল্পতা রয়েছে। পাম্প দিয়ে বেশিক্ষণ পানি উঠছে না, তাই সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। অমবশ্যায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে আমরা পাম্প দিয়ে পানি দিতে সক্ষম হলেও সেচ পানি সংকট সমাধান হবে।

 


গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ ০৬-০৩-২০২৪ ০৭:৩১ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 219 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া