শিরোনামঃ
চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ১৪-০৪-২০২৪ ০৪:৩৪ অপরাহ্ন |
এবারের পহেলা বৈশাখের অন্যরকম আবহ। ঈদের ছুটির পরপরই পহেলা বৈশাখ। আর তাই সরকারি বেসকারি চাকরিজীবী, পেশাজীবীরা ছুটি পেয়ে ঈদের পাশাপাশি বৈশাখ উদযাপন করছেন। ঈদের পরপরই পহেলা বৈশাখ হওয়ায় এবার পহেলা বৈশাখের দিনটি একটু বেশিই ব্যতিক্রম।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মাসব্যাপি বৈশাখী মেলায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান যেনো পরিণত হয় চাঁদপুরবাসীর মিলন মেলায়।
এর আগে রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং চাঁদপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এবারের শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি শহরের স্কুল-কলেজের নান্দনিক উপস্থিতি সবাইকে মুগ্ধ করে তোলে। বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রাটি কালী বাড়ি হয়ে ডাকাতিয়ার পাড়ে বৈশাখী মেলায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
এদিকে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী পর্বের পর চাঁদপুরের প্রসিদ্ধ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আয়োজনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অন্যদিকে বৈশাখী মেলাকে ঘিরে ডাকাতিয়ার পাড়ে বসে হরেক রকম পণ্যের দোকান। এসব দোকানগুলোতে মাটির তৈরি খেলনাসহ লোকজ সংস্কৃতির হরেক রকম পণ্য দেখা গেছে। সকাল থেকেই বৈশাখী মেলায় যেনো মানুষের ঢল নামে। গ্রামাঞ্চল থেকে ট্রেনে, বাসে করেও আনন্দপ্রিয় মানুষদের ছুটে আসতে দেখা যায় সার্বজনীন এ উৎসবে। পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সমগ্র শহর পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। আর তাই যে কোনো অনাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে শহর জুড়েই ছিলো ব্যাপক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি।
বৈশাখ উদযাপন করতে আসা আসমা আক্তার বলেন, বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। বছরের এই দিনটি আমরা খুব উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালন করি। বান্ধবিদের নিয়ে বৈশাখীর সাজে মেলায় এসেছে। এখানে এসে দারুন লাগছে। কারণ বর্ষবরণকে ঘিরে এখানে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে, যা একটি ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
পরিবারের সাথে আসা শিশু রাইসা বলেন, মেলায় অনেক মাটির পুতুল ও খেলায় আছে। পুতুল কিনেছি, আরো কিনবো। এখানে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। পুলিশের সদস্য জোবায়ের বলেন, আমাদের পরিবার ছাড়াই ঈদ উদযাপন করেছি।এখন আবার বৈশাখ উদযাপন করছি। কাজের মাঝে আমাদের উৎসব। সবাই আনন্দ পেলে, তা দেখে আমরা আনন্দ পাই। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত বলেন, এই প্রথম চাঁদপুরে প্রেসক্লাবরে উদ্যোগে একমাস ব্যাপি বাঙালির সাংস্কৃতিক উৎসব বৈশাখী মেলার উয়োজন করা হয়েছে। বাঙালিকে জাতীয়বাদীদে উদ্বুদ্ধ করা। শুধুমাত্র পহেলা বৈশাখে এটি সীমাবদ্ধ না থাকে। বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য যাতে সারাবছর মানুষ ধারণ করে, তার চেষ্টা করতে হবে। আমরা যত জাতীয়তাবাদীতে উদ্বুদ্ধ হবো, তত আমরা বিভিন্ন অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে পারবো।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পহেলা বৈশাখকে গিলে আমরা প্রতিটি যায়গায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেরেছি, যাতে বাঙালি নির্বিঘ্নে দিনটি উদযাপন করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি মনিটরিং করা হচ্ছে। যাতে কেউ স্যোলাল মিডিয়াম গুজব কিংবা রটিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়িয়ে দিয়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটনাতে না পারে, সেই বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, আমাদের আয়োজনটি বাঙালির সংস্কৃতির আয়োজন। নতুন প্রজন্মদেরকে আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্যই কিন্তু আমাদের এই আয়োজন। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন দেশীয় খেলাধুলার আয়োজন করে পুরস্কৃত করেছি। নতুন প্রজন্ম এখন বেশিই আধুনিক। তারা যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। কারণ র্যালিতে নতুন প্রজন্মদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া