শিরোনামঃ
আলআমিন ভূঁইয়া ১৬-০৪-২০২৪ ০৩:১৪ অপরাহ্ন |
চাঁদপুরে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বরফকল। একসময় চালু থাকা ৩৩টির মধ্যে এখন চলছে মাত্র দুটি। ৩১টি বরফকল বন্ধ রয়েছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন বন্ধ থাকায় জেলে নৌকাগুলোয় পর্যাপ্ত বরফ থাকছে না। নদ-নদী থেকে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগে। বরফ সংকটে সে সময় পর্যন্ত মাছ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যায়। আড়তেও বরফ সংকটে নষ্ট হচ্ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বরফকল বন্ধের কারণ হিসেবে মালিকরা বলছেন, পুঁজির অভাব, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন তারা।
মার্চ-এপ্রিলে জাটকার সুরক্ষা দেয়া গেলে ইলিশের উৎপাদন ছয় লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া ২০২৩ সালে পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া ও ধনাগোদায় ৩৪ হাজার ৯২ টন ইলিশ ও দেশীয় প্রজাতির ২ হাজার ৩৬৪ টন মাছ উৎপাদিত হয় বলে মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে। এসব মাছ সংরক্ষণ ও সরবরাহে বরফের ব্যাপক চাহিদা থাকে। কিন্তু সে অনুপাতে জোগান নেই চাঁদপুরে। সংকট নিরসনে বন্ধ থাকা কয়েকটি বরফকল চালুর জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে মালিক সমিতি আবেদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি মাত্র বরফকল চালু করেছে জেলা প্রশাসন। সব মিলিয়ে দুটি বরফকল চালু রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভরা মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে চাঁদপুরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। তাছাড়া বরিশাল ও ভোলা থেকে ইলিশ আসে। এসব মাছ সংরক্ষণে বরফ প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিলে নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। দুই মাস নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ সংরক্ষণ ও সরবরাহে বরফের চাহিদা অনেক। তখন হাতেগোনা কয়েকটি বরফকল দিন-রাত উৎপাদন করেও পর্যাপ্ত সরবরাহ দিতে পারে না। আরো কয়েকটি বরফকল চালু করলে বরফ সংকট থাকবে না। তবে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি পেলে নতুন বাজারের বড় স্টেশনের জলি ও রিয়াদ বরফকল, পুরান বাজারের পূবালী ও যমুনা আইস ফ্যাক্টরি চালু করা সম্ভব হবে।
মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত বলেন, ‘মাছের বাজার ধরে রাখতে আরো কয়েকটি বরফকল চালু করা প্রয়োজন। বরফ না থাকায় পাইকাররাও এখানে জিওল মাছ কিনতে আসছেন না।’
বরফকল মালিকরা জানান, চাঁদপুরে উৎপাদিত বরফ জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। কিছুদিন আগেও চাঁদপুরে পাঁচটি বরফকল সচল ছিল, যা থেকে সাড়ে তিন হাজার ক্যান বরফ উৎপাদন হতো। প্রতি ক্যান বরফ পাইকারি বিক্রি হয় ১৬০ টাকা দরে। উৎপাদিত সাড়ে তিন হাজার ক্যান বরফ বিক্রি করা হয় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকায়, কিন্তু বিদ্যুৎ বিলসহ সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ সমান। বর্তমানে মাত্র দুটি বরফকল উৎপাদন করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকার যদি সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বিল কমানোসহ সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে ব্যবসায়ীরা আবার এ শিল্পে বিনিয়োগ করবেন।
শহরের নতুন বাজারের ইলমা শাহরিন বরফকলের মালিক মারনুস মাহমুদ তন্ময় জানান, আগের মতো ইলিশসহ দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। ভরা মৌসুমেও মাছের সংকট দেখা দেয়। বরফের চাহিদা কম থাকা, বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বরফ কলগুলো। তবে চাঁদপুরে বরফকল বন্ধ হলেও মালিকদের কেউ কেউ মাছের উৎপাদন সাপেক্ষে অন্য জেলায় বরফকল স্থাপন করেছেন।
বরফকলের ম্যানেজার সফিকুল ইসলাম জানান, প্রচুর মাছ থাকলে সমস্যা নেই। মাছ কম থাকলে আমাদের লোকসান গুনতে হয়। শীতকালে পুরো মৌসুম লোকসান দিতে হয়। তখন বরফের চাহিদা কম থাকে। বছরের পাঁচ মাস পুরোটাই লোকসান গুনতে হয়।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া