শিরোনামঃ
চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ০৪-০৫-২০২৪ ০৫:০৪ অপরাহ্ন |
শনিবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঘনিয়া গ্রামের পাঠান বাড়ির গৃহবধূর স্বামী ইকবাল মাহমুদ সজিবের বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। তার আগে ভোর ৮ টার দিকে বাড়ির লোকজন তার মৃত্যুর বিষয়টি টের পান।
নিহত গৃহবধূর চাচা মনজুর আলম আনোয়ার বলেন, আমার ভাতিজি ইসরাত জাহান বিথির গত ৮ বছর পূর্বে ঘনিয়া গ্রামের অপর বড় ভাই সফিকুল ইসলাম পাঠানের ছেলে ইকবাল মাহমুদ সজিবের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ফাইজান নামে ৭ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জেরে তার শশুর, শাশুড়ি, ননদ, স্বামী মিলে বিভিন্নভাবে শারীরিক মানসিক ভাবে তাকে নির্যাতন করতো। এ সকল বিষয় নিয়ে পারিবারিকভাবে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠকও করা হয়। এছাড়াও একবার চেয়ারম্যান কার্যালয়ে সালিশের মাধ্যমে তাদের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়া হয়।এরপরও তার শ্বশুড় বাড়ির পরিবারে সব সময়ই ঝগড়া বিবাদের মধ্যেও সে তার সংসার করে আসছে। আজ সকালে হঠাৎ তার শশুর শাশুড়ি আমাদেরকে জানান, তাদের পুত্রবধু গলায় ফাঁস দিয়েছে। এই ঘটনার কথা আমরা ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে থানা থেকে পুলিশ ফোর্স গিয়ে তাদের বাড়ি থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের আরেক চাচা আব্দুল আজিজ ও ফুফু খালেদা আক্তার বলেন, আমাদের ভাতিজিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের শ্বশুড়ি সাহিদা বেগম জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে বিথী আক্তার তার ছেলে ফাইজানকে নিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যায়। সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে রুমের দরজা না খোলাতে উচ্চ স্বরে ডাকা ডাকি করি। এক পর্যায়ে রুমের ভিতর থেকে ফাইজান ইসলাম দরজা খুলে দিলে আমি এবং আমার স্বামী শফিক পাঠান পুত্রবধূ বিথী আক্তারের গলায় ওড়না পেঁচানোবস্থায় সিলিং ফ্যানের একটি হাতার সাথে ঝুলে থাকতে দেখি। আমাদের ডাক-চিৎকার শুনে প্রতিবেশি ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার তুহিন হোসেন এসে পুলিশকে খবর দেয়।
ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিথী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের ডান হাতে কাটা চিহ্ন রয়েছে। ইতিপূর্বেও তাদের পারিবারিক কলহ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। মৃতের সঠিক কারন নির্নয়ের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে মরদেহ প্রেরণ করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদরে প্রেরন করা হয়েছে। বিথীর বাবা আবুল বাশার বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে বাকী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া