শিরোনামঃ
নিউজ এডিটর ১৭-১১-২০২৪ ১০:০৭ অপরাহ্ন |
এমন ঘটনার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোতাহের হোসেন পাটওয়ারীকে প্রধান আসামী করে আদালতে মামলা করা হয়েছে। তবে প্রধান আসামীর দাবী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার সম্পত্তি তারা বেআইনিভাবে জবর দখল করেছিল, ৫ আগস্টের পর সুযোগ পেয়ে আমিও করেছি।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়িতে নালিশী সম্পত্তিতে কোন স্থাপনা পাওয়া যায়নি। ওই স্থানে বাড়ির মূল উঠান থেকে দক্ষিণ-উত্তর ও পশ্চিম পূর্বে পাকা সড়ক নির্মাণ অবস্থায় দেখাগেছে।
খোঁজ নিয়ে ও পাটওয়ারী বাড়ীর লোকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সাহাপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ীতে তিন বংশের লোকজন বসবাস করে। ওই বাড়ীর উত্তরাংশে মরহুম ইউনুছ পাটওয়ারীর ছেলেরা, দক্ষিণে আরেক পাটওয়ারী বংশের এবং দক্ষিণ পাশ্চিম অংশে মুন্সীরা বসবাস করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন-মরহুম ইউনুছ পাটওয়ারীর ছেলে মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী, পরিবারের সদস্য এবং তাদের সহযোগীরা। ইউনুছ পাটওয়ারীর স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে। এর মধ্যে বড় ছেলে মৃত নরুল ইসলাম পাটওয়ারী বাড়ীর সামনের অংশে বসবাস করেন। বাকীরা ভিতরের অংশে থাকেন। মৃত্যুর পূর্বে ইউনুছ পাটওয়ারী পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি ছেলে এবং ওয়ারিশদের মধ্যে আপোষ বন্টক করে যাননি। যে কারণে সবাই নিজ নিজ সুবিধা নিয়ে বসতঘর তৈরী করে বসবাস করেন। এমন তথ্য জানালেন বাড়ীর প্রবণী ব্যাক্তি হাসমত উল্লাহ মুন্সী।
মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, মৃত নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে ছোট ভাই বিএনপি নেতা মোতাহের হোসেন পাটওয়ারীর সাথে দীর্ঘদিন বিবাদ চলে আসছে। ইতোমধ্যে নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর ওয়ারিশরা মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী ও তার লোকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে। ওইসব মামলায় দুই আসামীর কারাদন্ড হয়।
জানাগেছে, সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী ও তার লোকজন বড় ভাই মৃত নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী বসতঘরের উত্তরে স্থাপনা ভাংচুর ও জুতার কারখানার মালামাল লুটসহ মারধরের অভিযোগ এনে চাঁদপুরে ফরিদগঞ্জ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর সিআর ৫৪৭/২০২৪)। মামলার বাদী হলেন-নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর সন্তানদের পরিচালিত কোম্পানীতে কর্মরত মো. আমির হোসেন স্বপন ভূঁইয়া। তিনি একই উপজেলার চির্কা চাঁদপুর গ্রামের মৃত সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ছেলে। ৬ আগস্টের ঘটনার পর থানা পুলিশের কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় ১৫ সেপ্টেম্বর ২৬জনের নাম উল্লেখ এবং ১০০-১২০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলাটি করা হয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, মামলার স্বাক্ষী মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী ও জাফর আহম্মেদ পাটওয়ারী পরিচালিত জুতার কারখানায় চাকরি করেন মামলার বাদী। সে সুবাদে ঘটনাস্থলে ওই জুতার কারখানার কাজ দেখাশুনার জন্য তিনি আসতেন। একযুগেরও অধিক সময় মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী ও জাফর আহম্মেদ পাটওয়ারীর সাথে তাদের আপন চাচা মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী গংদের সাথে সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছে। এসব বিরোধের জের ধরে মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী গংদের বিরুদ্ধে ২০১২ এবং ২০২১ সালে দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে এক মামলায় দুই আসামীর কারাদন্ড হয়। এসব মামলা এখনো আদালতে চলমান।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট সকাল ১০টায় মামলার স্বাক্ষী মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী ও জাফর আহম্মেদ পাটওয়ারীর বসত বাড়ীতে ১ নম্বর আসামী মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী ও ২ নম্বর আসামী শামছুল হুদা পাটওয়ারী ঢাকা থেকে ট্রাক ভর্তি করে গুন্ডাপান্ডা, সন্ত্রাসী, এলাকার উশৃঙ্খল লোকদের ভাড়া করে ১০০ থেকে ১৫০জন অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়ীতে উপস্থিত হয়। সেখানে বাড়ীর কাজের বুয়াকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে গেট থেকে বাহির করে দেয়। এ সময় তারা স্থাপনা ভাংচুর ও লুটপাট করে। ওই স্থানে থাকা স্থাপনা ও ৫ হাজার জোড়া জুতা যার আনুমানিক মূল্য ৮৫লাখ টাকা। এসব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
এছাড়াও মামলার বাদী মো. আমির হোসেন স্বপন ভূঁইয়া ৭ আগষ্ট ঘটনাস্থলে আসলে তাকে মারধার ও তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোন (মূল্য ৪৫ হাজার টাকা) ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয় মামলায়। টাকা নিয়েছেন মামলার আসামী সেলিম এবং নগদ টাকা নিয়েছেন আলী আলম।
তবে এসব ঘটনার বিষয়ে আসামী আলী আলম ও সেলিম বলেন, মৃত নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারীর একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করছে। তাদের চাচাদের সাথে তাদের সম্পত্তিগত বিরোধ। তারা বাড়ী ও গ্রামের নিরীহ ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে একের পর এক মামলা করে আসছে। তাদের অভিযোগ সত্য না। মূলত মাহবুব পরিবারের কারণে মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী বাড়ীতে প্রবেশ করতে পারে না। তারা শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের লোকদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং পেশিশক্তি ব্যবহার করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এই বিষয়ে তাদের চাচা মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী সামাজিকভাবে বসে সমাধান করতে চাইলেও তারা বসতে রাজি হননি। তারা বাড়ীর মসজিদসহ যে কোন ভালকাজে বাধা দিয়ে আসছে।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মৃত নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে মাহবুব ও জাফর পাটওয়ারীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
মামলার বাদী আমির হোসেন স্বপন ভূঁইয়া বলেন, বিবাদী পক্ষ যেসব কথা বলেছে সেসব কথা আমার জানা নেই। তাদের বড় ভাই মরহুম নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী এবং তাদের পিতা মরহুম ইউনুছ পাটওয়ারীর জীবীত থাকাকালীন আনুমানিক ১৯৭৫ সালের দিকে নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর বসতঘর ও উত্তর পাশের স্থাপনা নির্মাণ করেন। ওই ঘরে উনাদের মায়ের ছবিও ছিল। হাঁটার জন্য ঘরের পূর্বে দিকে একটি রাস্তা আছে। একটি ঘরের দুই পাশে রাস্তা হতে পারে না। আমি তাদের কোম্পানীতে কর্মরত ২০১৫ সাল থেকে। নির্মাণ কাজ আরও আগে। আমি তাদের মুখে এসব বিষয়ে শুনেছি। মামলায় যেসব অভিযোগ উল্লেখ করেছি এসব ঘটনাই সঠিক। এরচাইতে বেশী কিছু বলতে পারব না।
মামলার প্রধান আসামী মোতাহের হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আমার বাড়িতে প্রবেশ করার পথ আমার বড় ভাইয়ের দুই ছেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও তার লোকজন দিয়ে একরাতে বন্ধ করে দিয়েছে। ওই ঘটনার পর স্থানীয় ৭টি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়াও তারা বাড়ীর ওয়াকফকৃত জমিতে মসজিদ নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আসছে। সাধারণ ঘটনা নিয়েও তারা মামলা দায়ের করে। তারা আমার ৬শতাংশ জমি দখল করে রেখেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে কথা বলতে এবং গত এক বছর বাড়িতে প্রবেশ করতে পারিনি। এখন আমি আমার সম্পত্তি দখলে নিয়েছি। তাদের কোন সম্পত্তি দখলে নেইনি।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া