জেনে নিন তৃষ্ণা বৃদ্ধিকারী ৫ খাবার
১৯ মে, ২০২৬ ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

  

   শিরোনামঃ

জেনে নিন তৃষ্ণা বৃদ্ধিকারী ৫ খাবার

কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি
১২-০৩-২০২৫ ০৪:১৯ অপরাহ্ন
জেনে নিন তৃষ্ণা বৃদ্ধিকারী ৫ খাবার
মানব শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশই পানি। পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ, বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন এবং কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে কিছু খাবার রয়েছে যা খেলে তৃষ্ণা বেড়ে যায় এবং শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

তাই সেহরিতে এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চললে সারাদিন পানির পিপাসা কম লাগবে। জেনে নিন এমন ৫টি খাবার- ১. অতিরিক্ত লবণাক্ত ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারঃ লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড শরীরে পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার যেমন চিপস, পপকর্ন, প্রক্রিয়াজাত মাংস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ইত্যাদি খেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই সোডিয়াম শরীর থেকে পানি শোষণ করে এবং কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করে। ফলে তৃষ্ণা বেড়ে যায় এবং শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। আবার উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার যেমন ক্যান্ডি, কেক, পেস্ট্রি, সোডা ইত্যাদি খেলে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। চিনি শরীরে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। এই গ্লুকোজ মেটাবলিজমের জন্য শরীরে বেশি পানি প্রয়োজন হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়ার পর শরীরে অসমোটিক প্রেসার বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে তৃষ্ণার সংকেত পাঠায়। এই প্রক্রিয়ায় শরীর পানি সংরক্ষণ করে এবং কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে বেশি পানি ব্যবহার করে। আবার উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এই গ্লুকোজ কিডনিতে ফিল্টার হয় এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়, ফলে তৃষ্ণা বেড়ে যায়।

২. ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ঃ কফি, চা, এনার্জি ড্রিংকস এবং কোলা জাতীয় পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে। ক্যাফেইন একটি মৃদু মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে, যা শরীর থেকে পানি বের করে দেয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায় এবং তৃষ্ণা বেড়ে যায়। গবেষণায় বলে, ক্যাফেইন কিডনিতে রক্ত প্রবাহ বাড়ায় এবং সোডিয়াম ও পানি শোষণ কমিয়ে দেয়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

৩. মসলাযুক্ত, তৈলাক্ত ও ভাজা খাবারঃ মসলাযুক্ত খাবার যেমন ঝাল মরিচ, কারি, হট সস ইত্যাদি খেলে মুখে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। আবার তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সমুচা, পাকোড়া ইত্যাদি হজম করতে শরীরে বেশি পানি প্রয়োজন হয়। ঝাল মরিচে ক্যাপসাইসিন নামক যৌগ থাকে, যা মুখের রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় শরীর ঠান্ডা রাখতে বেশি পানি প্রয়োজন হয়। এছাড়া এই খাবারগুলো পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়িয়ে তৃষ্ণা বাড়ায়। তৈলাক্ত খাবার হজমের জন্য পিত্তরসের প্রয়োজন হয়, যা লিভার থেকে নিঃসৃত হয়। এই প্রক্রিয়ায় শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

৪. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ মাংস, ডিম, মাছ, ডাল, সয়া প্রোডাক্টস ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হজম করতে শরীরে বেশি পানি প্রয়োজন হয়। প্রোটিন বিপাকের সময় ইউরিয়া এবং নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়, যা কিডনি ফিল্টার করে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পর শরীরে ইউরিয়া উৎপাদন বেড়ে যায়। ইউরিয়া দূর করতে কিডনিকে বেশি পানি ব্যবহার করতে হয়, ফলে তৃষ্ণা বেড়ে যায়।

৫. শুকনো ফল ও বাদামঃ শুকনো ফল এবং বাদামে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে। এই খাবারগুলো হজম করতে শরীরে বেশি পানি প্রয়োজন হয়। এছাড়া এগুলোতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শুকনো ফলে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে, যা হজমের জন্য বেশি পানি শোষণ করে।

এসব খাবার শরীরে পানির চাহিদা বাড়ায় এবং তৃষ্ণা বৃদ্ধি করে। তাই এই ধরনের খাবার খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। তবে শারীরিক পরিশ্রম, গরম আবহাওয়া বা বিশেষ শারীরিক অবস্থার জন্য এই পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। পানির অভাবে ডিহাইড্রেশন, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, কিডনির সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। তাই সচেতনভাবে পানির চাহিদা পূরণ করুন এবং তৃষ্ণা বৃদ্ধিকারী খাবারগুলো সেহেরিতে এড়িয়ে চলুন।


কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি ১২-০৩-২০২৫ ০৪:১৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 141 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া