শিরোনামঃ
কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি ১৪-০৪-২০২৫ ১২:৪১ অপরাহ্ন |
শহরের বৈশাখ মানেই সাজসজ্জার এক মহোৎসব। এখানে ভোরে চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা, লাল-সাদা পোশাক, মুখোশে রঙিন মুখ, হাতে সেলফি স্টিক। শহরের মানুষ বৈশাখে ফিরে পেতে চায় এক শিকড়ের রোমান্টিকতা—যেটা অনেকটা স্মার্টফোনের ফ্রেমে বন্দি করা নস্টালজিয়া।
তরুণ-তরুণীরা বৈশাখের সকালে চারুকলায় যায়, ফটোসেশন করে, স্টোরি পোস্ট করে—তারপর ফিরে যায় আপন নীড়ে। আর মনে মনে ভাবে, ‘কিছু একটা ছিল... যেটা হারিয়ে গেছে। ছবি আছে, কিন্তু উৎসবটা নেই।’ এ যেন মুখোশ পরে উৎসবের অভিনয়।
বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন, খাবারের হোটেলের বৈশাখী মেনু, আর ‘ফোক স্টাইল’র নতুন ফ্যাশন—সব মিলে শহুরে বৈশাখ যেন অনেকটা ‘উৎসবের মুখোশ’ হয়ে দাঁড়ায়। আনন্দ থাকে, তবে তার গভীরতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। আর আন্তরিকতা কখনো লোক দেখানো আবার কখনো স্ট্যাটাসে টাইপ করা এক অনুভব।
অন্যদিকে পুরোই ভিন্ন চিত্র গ্রামের পহেলা বৈশাখ। সেখানে আছে মাটি আর প্রাণের ছোঁয়া। রং-মুখোশ-ক্যামেরা-পোস্ট কিছুই নেই, আছে শুধু গ্রামের সহজ-সরল মানুষের মন ভুলানো হাসি আর প্রাণভরা ভালোবাসা। এখানে কেউ মুখোশ পরে না, কেউ ফিল্টারও লাগায় না। যে যেমন, সে তেমনই। এই সরলতা আর মাটির টানেই এখানের বৈশাখ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
বাউল গান, হা-ডু-ডু খেলা, বৈশাখী হাট সবকিছুতেই থাকে স্পর্শযোগ্য আন্তরিকতা। এখানে উৎসব মানেই অন্যকে সঙ্গে নিয়ে চলা, কারো পাশে দাঁড়ানো, আর একবেলার খুশি ভাগ করে নেওয়া। শহরে সময়ের চাপ, ক্যামেরার ফ্রেম আর ব্যস্ততাই হয়ে ওঠে উৎসবের প্রাণ। অন্যদিকে গ্রামে সে জায়গা দখল করে দেয় মানবিক সম্পর্ক আর স্বাভাবিক জীবনধারা।
পহেলা বৈশাখ শুধুমাত্র পোশাক বা প্রথার নয় এটি একটি অনুভূতির নাম। শহরের মুখোশে আবৃত হলেও আমরা মাটির মানুষের মতো আন্তরিক হতে পারলে উৎসবটা আসল হবে। শহর আর গ্রামে নয়, বৈশাখ যেন হৃদয়ে এক হয়। এই বৈশাখে তোমার হাসি, তোমার আন্তরিকতা, তোমার ছোট্ট সহযোগিতাই হয়তো কারও জন্য হয়ে উঠতে পারে ‘নতুন বছর’ এর বিশেষ উপহার।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া