শিরোনামঃ
শামসুল আলম জুয়েল ২১-০৪-২০২৫ ০৫:৩২ অপরাহ্ন |
মিজানুর রহমান চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আদশা গ্রামের বাসিন্দা মৃত এরশাদ মিজির বড় ছেলে। মিজান এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
নিহতের চাচাতো ভাই মানিক হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মানিক সৌদি আরবে নিহত মিজানের কাছেই থাকেন। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে আমার জেঠাতো ভাই মিজান মালামাল লোড করে গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে একটি দ্রুতগতির গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মানিক আরো বলেন, খবর পেয়ে ভোরে আমরা হাসপাতালে এসে দেখি ভাই আর বেঁচে নাই। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
নিহতের আরেক চাচাতো ভাই ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পারভেজ মোশারফ বলেন, মিজান ভাই গত ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে ছিলেন। তিনি নিজস্ব একটি পণ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আড়ত থেকে সবজি সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে সরবরাহ করতেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন তিনি।
পারভেজ আরও জানান, মিজান পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। এর আগেও তার ছোট ভাই আহসান (দ্বিতীয়) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এবং ছোট বোন বেবি আক্তার (সবার ছোট) অসুস্থ হয়ে মারা যান। এছাড়া, তিন বছর আগে তাদের বাবাও মারা যান। এক দশকে পরিবারের তিন সদস্য ও পিতা মারা যাওয়ায় পরিবারটি একের পর এক শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে। এখন কেবল মিজানের দুই ভাইবোন বেঁচে আছেন—তৃতীয় জন জেসমিন ও চতুর্থ জন মাইনুল ইসলাম কালু।
পারভেজ জানান, মিজান সর্বশেষ ২০২৩ সালের শেষ দিকে দেশে ছুটিতে এসেছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এলাকাজুড়েও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মিজানের মেয়ে জেরিন (২৩) বিবাহিত এবং ছেলে সামির (১৭) চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থী।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা রাজিয়া বলেন, “সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। মরদেহ দেশে আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া