শিরোনামঃ
কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি ০৯-০৮-২০২৫ ০৯:১৪ অপরাহ্ন |
শনিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সড়কের কাদাময় মাটিতে ধানের চারা রোপণ করেন। তারা জানান, বহু বছর ধরে সড়ক সংস্কার বা পাকা করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামতে হয়েছে।
সরাসরি সড়ক পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাদা ও পানিতে সড়কটি মোটরসাইকেল, ভ্যান, সাইকেলসহ যেকোনো যানবাহনের চলাচলের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, খলাপাড়া, সিদলা, কর্দি সিদলা, ফুলচোঁয়া ও নাওহাটা এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই সড়ক। সড়কের বেহাল দশার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কাজে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান মিয়া জানান, আমরা ১৫ দিন আগে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম গ্রামের আটজন। তখন চেয়ারম্যান আমাদের কাছে বলল এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিতে। দিলে দ্রুত রাস্তার কাজ হয়ে যাবে। আমরা ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছিলাম।
আরো কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলনের কাছে বারবার সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও চেয়ারম্যান জানান, সড়ক পাকাকরণের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। কাজ দ্রুত শুরু করতে হলে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রয়োজন, যা তারা দিতে না পারায় কাজ আটকে রয়েছে। প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ পাকা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে এস্টিমেট পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু অনুমোদন মেলেনি। বর্তমানে ৮শ মিটার রাস্তার জন্য নতুন এস্টিমেট তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত টেন্ডার দেওয়া হবে।
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, "আমি আওয়ামী লীগের আগে আমলে নির্বাচন করে তিনবার চেয়ারম্যান হয়েছি। আমি মানুষের রাস্তা আরো করে দেই, আমি কেন টাকা চাইবো? আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, "রাস্তার বিষয়টি আইডি নম্বর থাকলে এলজিডি এসব কাজ করে থাকে এবং মন্ত্রণালয়ে এস্টিমেট পাঠায়। এখন তারা পাঠিয়েছে কিনা আমি নিশ্চিত নই, তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
গ্রামবাসী পুনরায় দাবি জানিয়েছেন, সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে হবে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া