ফরিদগঞ্জে পাঁচশত অনহারির মুখে খাবার তুলে দিয়ে বাবার জন্মদিন পালন করলেন পুত্র
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:২৩ অপরাহ্ন

  

ফরিদগঞ্জে পাঁচশত অনহারির মুখে খাবার তুলে দিয়ে বাবার জন্মদিন পালন করলেন পুত্র

গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ
২৫-১২-২০২৫ ০৭:১৭ অপরাহ্ন
ফরিদগঞ্জে পাঁচশত অনহারির মুখে খাবার তুলে দিয়ে বাবার জন্মদিন পালন করলেন পুত্র
জীবদ্দশায় ছিলেন, একজন স্বনামধন্য আদর্শ শিক্ষক, নিরহংকারী-নির্লোভ এ মানুষটি ছিলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মিঃ সমরেন্দ্র মিত্র। ৬১ বছরের এক বর্নাঢ্য জীবন অতিবায়িত করে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু ২৫ ডিসেম্বর ছিল মানুষ গড়ার কারিগর সমরেন্দ্র মিত্র’র জন্মদিন। বেঁচে থাকতে কেক কাটার মধ্যদিয়ে জন্মদিন পালন করলেও প্রয়াত বাবার জন্মদিনে এ বছর ব্যতিক্রমী আয়োজনে সমরেন্দ্র মিত্র’র জন্মদিন পালন করেন তারই পুত্র তরুণ উদ্যেক্তা সনজিব মিত্র।

বাবার মতই দেশের নিজ উপজেলার মানুষকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ সনজিব মিত্র, বাবার জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুঁজে খুঁজে পাঁচশত অসহায়-অনাহারি মানুষের মাঝে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করেন তিনি।

এছাড়াও ফরিদগঞ্জের আলোচিত চতুরা গ্রামের আজিম বাড়ির একই পরিবারের ৬ প্রতিবন্ধীর মাঝেও খাবার সামগ্রী বিতরণসহ সাধ্যনুযায়ী নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। পুরোদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান, সাংবাদিক গাজী মমিন, সাংবাদিক রিফাত কান্তি সেন, সাংবাদিক শামিম হাসান, আকাশ মিত্র, শুভ মজুমদার, রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ।

সনজিব মিত্র বলেন, "আমার বাবা একজন প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি শুধু শিক্ষাই বিলাননি সামাজিক কর্মকান্ডও করে গিয়েছেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখলে মনে আনন্দ লাগে। বাবা এখন পৃথীবিতে নেই, বাবার জন্য সবাই প্রার্থনা করবেন।

সমরেন্দ্র মিত্র’র ভাগ্নে সাংবাদিক রিফাত কান্তি সেন বলেন, আমার মামা মানুষকে খাওয়াতে পারলে খুশি হতেন। আমি সাংবাদিকতা পেশার সাথে থাকার সুবাদে উপজেলার অসহায় পরিবার গুলোর আমার চেনা। মামা যেহেতু মানুষকে খাওয়াতে পারলে খুশি হতেন, তাঁর খুশির কথা মাথায় রেখেই পরিবারের পক্ষ থেকে এমন আয়োজন। আমরা খাবার দিয়ে কারো ছবি তুলিনি। মান্ষুরে আত্মসম্মানের কথা বিবেচনায় রেখে এমন সিদ্বান্ত নিয়েছি। আমরা প্রকৃত অসহায় মানুষদের বেছে বেছে খাবার বিতরণ করেছি। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্যই আমাদের আয়োজন।

সমরেন্দ্র মিত্র’র ভাতিজা আকাশ মিত্র বলেন, প্রায় পাঁচশত প্যাকেট খাবার আমরা বিতরণ করেছি। আমার কাকা সামাজিক ভাবেও একজন চমৎকার মানুষ ছিলেন। তিনি নেই পৃথিবীতে কিন্তু তার রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলো আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের যারা বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞচিত্রে ধন্যবাদ। মৃত্যুকালে সমরেন্দ্র মিত্র স্ত্রী-একপুত্র ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


গাজী মমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদ্গঞ্জ ২৫-১২-২০২৫ ০৭:১৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 572 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া