শিরোনামঃ
অনলাইন ডেস্ক ২৩-০১-২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন |
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে খননের নামে খাল থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খাল পাড়ের কৃষিজমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের কৃষিজমিসহ বসতবাড়ি। উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কোদালিয়া খাল থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দুপুরে জমির মালিক, স্থানীয় ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানান। তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের তোপের মুখে পড়ে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে বাধ্য হন ঠিকাদার। এ সময় অনুমতি নিয়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বলে জানান ঠিকাদারের লোকজন। তবে তারা অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি।
জানা গেছে, কোদালিয়া খালের মাধ্যমে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা সেচের পানি পেয়ে থাকেন। খালটির অধিকাংশ স্থানে ভরাট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে সরকারিভাবে গত ১৫ দিন ধরে ভেকু মেশিন দিয়ে খালটি খনন করা হলেও গত ৪-৫ দিন ধরে রসুলপুর গ্রাম এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বালু উত্তোলন করার কারণে খাল পাড়ের বেশকিছু কৃষিজমি ভেঙে পড়েছে। অন্য ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তীব্র ভাঙন দেখা দিলে স্থানীয়রা খালপাড়ে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন ঠিকাদারের লোকজন।
তাদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন হলেও রসুলপুর এলাকায় ড্রেজার দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। আবার উত্তোলিত বালু খাল পাড়ে না রেখে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের না দিয়ে সেই বালু বিক্রি করা হচ্ছে। তাই, ওই এলাকার জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রসুলপুর এলাকার লোকজন জানান, এখানে যারা বসবাস করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। যার কারণে অন্য জায়গায় ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খনন করা হলেও এখানে তারা সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন হওয়ায় রসুলপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে ঠিকাদার তাদের সঙ্গে জোর-জুলুম করছেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইটম্যান শামছুল ইসলাম মন্টু ও আরজুর সঙ্গে। তারা বলেন, খাল খননের কাজ পেয়েছেন সাব্বির হোসেন ওসমান। কিন্তু কাজ করছেন সাব-ঠিকাদার মিশকাত।
তারা জানান, এভারেজে প্রায় ৭০ ফুট খাল খনন করা হচ্ছে। কিন্তু রসুলপুর এলাকায় খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ মিটার। তাই সরকারি অনুমতি নিয়ে সেখানে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে বালু বিক্রি করা হচ্ছে না।
জেলা বিএডিসি (সেচ) ও হাজীগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, খাল খননে অনেক সময় ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করতে হয়।
এদিকে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার তানজিনা জাহান বলেন, ঠিকাদার মাটিকাটার অনুমতিপত্র নিয়ে অফিসে আসার কথা ছিল কিন্তু আসেননি। কাজটি কোন প্রকল্পের তা জানা নেই। তবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মাটি কেটে বিক্রি করার সুযোগ নেই।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, ড্রেজারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জেনেছি, শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া