শিরোনামঃ
কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি ০৪-০২-২০২৬ ০৫:১৪ অপরাহ্ন |
বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের কমিটি। বহিষ্কার করা হয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে। কাগজে-কলমে ফরিদগঞ্জে এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যকর নেতৃত্ব প্রায় শূন্য।
চাঁদপুর–৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশীদ। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিংড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটির (বর্তমানে কার্যক্রম স্থগিত) আহ্বায়ক মো. আব্দুল হান্নান।
উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী মো. আব্দুল হান্নানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যাহ সেলিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আব্দুল হান্নানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একাধিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও বহিষ্কারের ঘোষণা আসে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. মঞ্জিল হোসেন পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আমানত গাজী এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুক আহমেদ খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
একই দিনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মঞ্জু ও সদস্য সচিব আবু ইউসুফ চৌধুরী শাওনকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেনসহ চারজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
এত সংখ্যক বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তির ফলে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো কার্যত সাংগঠনিক শূন্যতায় পড়েছে। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন সংকটে আগে কখনো পড়েনি বিএনপি—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাঁদের মতে, চাঁদপুর–৪ আসনে তৃণমূলের মনোভাব ও বাস্তবতা অনুধাবনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির সর্বশেষ কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুল হান্নানের প্রতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসার বিষয়টি উপেক্ষা করায় দলটি এখন জনবিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ঢালাও বহিষ্কারের ফলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা গেছে, যা ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করতে পারে। এতদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলার কারণে যারা প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারেননি, বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে সেই প্রতিবন্ধকতাও দূর হয়েছে। এতে করে ধানের শীষের সংকট আরও গভীর হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া