ইবাদতের মাসেও ক্লাসের ব্যস্ততা রমজান মাসে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও দেশের অনেক বেসরকারি ও প্রাইভেট স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, ইবাদত-বন্দেগি এবং পারিবারিক পরিবেশ বিবেচনায় রেখে সরকারি স্কুলগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে বিভিন্ন এলাকায় কিছু প্রাইভেট স্কুলে নিয়মিত ক্লাস, এমনকি পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, রমজান মাসে দীর্ঘ সময় ক্লাস নেওয়া কষ্টসাধ্য হলেও চাকরি হারানোর আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে পারেন না। একজন শিক্ষক বলেন, “সরকারি স্কুলে ছুটি থাকলেও আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপস্থিত থাকতে হয়। রোজা রেখে টানা ক্লাস নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু বলার সুযোগ নেই।”
আরেকজন শিক্ষিকা বলেন, “আমাদের বেতন কম, সুযোগ-সুবিধাও সীমিত। কিন্তু ফলাফলে আমরা পিছিয়ে নেই, বরং অনেক সময় ভালো ফলই করি। তারপরও রমজান মাসে ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাই না। এই বৈষম্য কবে দূর হবে জানি না।”
অন্যদিকে কিছু প্রাইভেট স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি শেষ করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় রেখেই তারা ক্লাস চালু রেখেছেন।
তবে অভিভাবকদের একটি অংশ মনে করেন, রমজান মাসে স্কুল বন্ধ থাকাই উচিত। তাদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদেরও ইবাদত, রোজা ও পারিবারিক সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘ সময় ক্লাসের চাপ থাকলে তারা ধর্মীয় চর্চা ও মানসিক প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সরকারি নির্দেশনা মূলত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একাডেমিক ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।