শিরোনামঃ
সবুজ গাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬-০৩-২০২৬ ০২:৩৯ অপরাহ্ন |
দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে, তবেই টিকবে পাটশিল্প: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক- এরশাদ উদ্দিন
“পাট শিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন”—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)- মোঃ এরশাদ উদ্দিন বলেন, পাট হচ্ছে বাংলাদেশের গোল্ডেন ফাইবার বা সোনালী আঁশ। ছোটবেলায় আমরা পাট নিয়ে রচনা পড়েছি। একসময় পাটের বস্তা, পাটের ব্যাগসহ নানা পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। কিন্তু বর্তমানে পাটের ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ পাটকলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়া। চাঁদপুরের দুটি পাটকলই এখন বন্ধ। এমনকি বাংলাদেশের বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিল ২০০১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। দেশে যদি পাটকলই না থাকে, তাহলে পাটের ব্যবহার বাড়বে কীভাবে—এ প্রশ্নও তিনি তোলেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পাটের বস্তা পর্যন্ত আমরা নিজেরা তৈরি করতে পারি না, বরং বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে পাটচাষিদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
এরশাদ উদ্দিন বলেন, দেশের পাটকলগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রও ছিল। অর্থনীতিতে “ডাম্পিং” নামে একটি বিষয় রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরুন ভারতের বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি ১০০ টাকা, কিন্তু একই চিনি যদি বাংলাদেশে এসে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ বিদেশি চিনি কিনবে। ফলে দেশীয় উৎপাদিত চিনির চাহিদা কমতে কমতে একসময় চিনিকলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। পরে যখন দেখা যাবে দেশে আর উৎপাদন নেই, তখন আমদানিকারক দেশ সেই একই চিনি অনেক বেশি দামে বিক্রি করবে। তার ভাষায়, এ ধরনের ডাম্পিংয়ের ফলেই দেশের অনেক শিল্পের মতো পাটকলগুলোরও পতন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি ভারত সফরে গিয়ে দেখেছেন—সেখানকার বাজারে বিদেশি পণ্যের উপস্থিতি খুবই কম। মানুষ প্রধানত নিজেদের দেশের উৎপাদিত পণ্যই ব্যবহার করে। “মেড ইন ইন্ডিয়া” পণ্যের প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে দেশীয় পণ্যের প্রতি সেই একই ধরনের মমত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না। দেশের প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা বাড়লে পাটকল বা চিনিকলের মতো শিল্পগুলো বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল হুদা-এর সঞ্চালনায়- সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক- মোঃ আবু তাহের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার -নাদিরা নূর, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি- সোহেল রুশদী এবং টেলিভিশন ফোরামের সভাপতি ও সাবেক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক- কাদের পলাশ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, চাঁদপুর পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা- মোঃ জহুরুল ইসলাম এবং পাটচাষিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, মতলব দক্ষিণের পাট চাষি- মোঃ মনিরুজ্জামান।
আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পাটচাষি, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া