শিরোনামঃ
চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ২৭-০৩-২০২৬ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন |
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐ গ্রামের বাদশা মিজির ছেলে হানিফ মিজি (২৮) ও আল আমিন মিজি (২৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য সেবন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত। সন্ধ্যা হলেই ভুক্তভোগী চাচা হারুন মিজির পরিত্যক্ত ঘরে বসতো মাদক ও জুয়ার আসর। রাত যত গভীর হয়, মাদক সেবনকারীদের আড্ডা ততই জমে উঠে। আর দিনের আলোয় স্কুল ও কলেজগামী উটতি বয়সের মেয়েদের নানাভাবে উত্যক্ত করতো। এসব বিষয় জানাজানি হলে তারা সন্দেহের বসে পরিত্যক্ত ঘর মালিক চাচা হারুন মিজিকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে জোর পূর্বক যায়গা সহ বসতভিটা দখল করে। পরে নিরিহ চাচা হারুন মিজি বাড়ির পাশেই নতুন বাড়িতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকেন। এই সুযোগে পরিত্যক্ত সেই ঘরটিকে মাদকের আখড়া বানায় হানিফ ও আল আমিন দুই ভাই। ভুক্তভোগী চাচা হারুন মিজির স্ত্রী রাবিয়া বেগম নিজের ঘর ও বসতবাড়ীর খোঁজ খবর নিতে আসলে সেখানে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সামগ্রী দেখে বকাঝকা করলে তারা দু-ভাই ও বাবা মিলে রাবেয়া বেগমকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হারুন মিজি ও বাদশা মিজি দুই ভাই। যায়গা জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৭টায় হারুন মিজির স্ত্রী রাবিয়া বেগম পরিত্যক্ত ঘরে মাদকদ্রব্য বেচা-কেনার প্রতিবাদ করায় আল আমিন ও হানিফ মিজি ধারালো ছেনি, দা, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা করে। হামলায় দায়ের কোপে মাথায় মারাত্মক জখম করে, যেখানে ৯টি সেলাই দিতে হয়েছে। হানিফ মিজির ছেনির কোপে রানে রক্তাক্ত করে, যেখানে ৫ টি সেলাই দিতে হয়েছে। রাবিয়া বেগমের চিৎকার চেচামেচি শুনে স্বামী হারুন মিজি এগিয়ে আসলে বড় ভাই বাদশা মিজির দায়ের কোপে ডান হাতের ৩টি আঙুল হাড়সহ এক তৃতীয়াংশ কেটে যায়। অতর্কিত হামলার এক পর্যায়ে রাবিয়া বেগমের গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে আশপাশের মানুষজন তাদেরকে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুক্তভোগীদের অবস্থা আশংকাজনক বলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী হারুন মিজি দীর্ঘদিন চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ মার্চ ২০২৬ বাড়িতে ফিরে আসলে পুনরায় ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসী কায়দায় হারুন মিজির বাড়িতে হামলা চালায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত সেই ঘরের পাশে বড় ভাই বাদশা মিজির ঘর। পাশাপাশি ঘর ও বসতবাড়ী নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় কিছুদূর এগিয়ে নতুন বাড়ি করে বসবাস করছেন হারুন মিজি। স্থানীয় রাসেল ছৈয়াল জানান, অতর্কিত হামলায় চিৎকার চেচামেচি শুনে দৌড়ে এসে দেখি রাবিয়া বেগমের মাথায় ও রানে মারাত্মক জখম। অঝোরে রক্ত ঝরছে। পরে আমরা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
পার্শ্ববর্তী বাড়ির হাজেরা বেগম জানান, হারুন মিজি ও বাদশা মিজি এ দুই ভাইয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। পরিত্যক্ত ঘরটাতে মাদকদ্রব্য সামগ্রী দেখে গত মাসের ২৭ তারিখ সকালে রাবিয়া বেগম বকাঝকা করছিলেন। পরে দেখলাম বাদশা মিজি ছেলেরা তার উপর দা, ছেনি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। মূহুর্তেই দেখলাম মাথা ও রানে জখম থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। হারুন মিজি দৌড়ে এগিয়ে আসলে তাঁকেও দা দিয়ে কোপ দেয় তারই বড় ভাই বাদশা মিজি। মাদকদ্রব্য বেচা-কেনার প্রতিবাদ করায় এভাবে অতর্কিত হামলা করে তারা।
অভিযুক্ত আল আমিন ও হানিফ মিজিকে মোবাইলে কিংবা সরাসরি পাওয়া যায়নি। তারা এসব বিষয়ে কথা বলতে নারাজ। মামলার তৃতীয় আসামি ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদশা মিজি বলেন, যায়গা জমি ভাগবাটোয়ারা হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ বাড়িতে বসবাস করছি। আমার ছোট ভাই হারুন মিজি পাশেই বাড়ি করে সেখানে বসবাস করে। মাঝেমধ্যেই তারা আমাদের বাড়িতে এসে শুধু শুধুই চিৎকার চেচামেচি করে। রমজানের রোজা রেখেও এখানে এসে উচ্চ আওয়াজে বকাঝকা করতেছিল। পরে আমার ছেলেরা ঘুম থেকে উঠে এসে চাচিকে বাসায় চলে যেতে বলে। বাসায় না গিয়ে স্বামী স্ত্রী দুজনেই আমার ছেলেদের মারধর করে। তাদের ধস্তাধস্তিতে আমি এসে উভয়কে মানিয়ে দিয়েছি।
হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী হারুন মিজির স্ত্রী। কোর্ট থেকে আদিষ্ট হয়ে আমার সাব-ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফাকে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার করার নির্দেশ প্রদান করেছি। আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছে, খুব শীঘ্রই তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া