মতলবে ১৬ বছর ধরে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড় ডিঙিয়ে এখন দুই উপজেলার দায়িত্বে আশরাফুল ​
০৩ মে, ২০২৬ ০৮:১৯ অপরাহ্ন

  

   শিরোনামঃ

মতলবে ১৬ বছর ধরে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড় ডিঙিয়ে এখন দুই উপজেলার দায়িত্বে আশরাফুল ​

চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক
০৩-০৫-২০২৬ ০৫:০০ অপরাহ্ন
মতলবে ১৬ বছর ধরে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড় ডিঙিয়ে এখন দুই উপজেলার দায়িত্বে আশরাফুল ​
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে খুঁটি গেড়ে বসে আছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আলম। পাহাড়সম অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য, কেন্দ্র ফি জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ভুরিভুরি অভিযোগ থাকলেও তিনি যেন ‘অস্পৃশ্য’। শাস্তি তো দূরের কথা, পুরস্কার হিসেবে তাকে এখন পার্শ্ববর্তী মতলব দক্ষিণ উপজেলারও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই উপজেলা মিলিয়ে ১০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য এখন তার কলমের ডগায়। ​

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৮ সালে মতলব উত্তর উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই কৌশলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন আশরাফুল। ১৬ বছরের কর্মজীবনে ৭ বছরই তিনি কাটিয়েছেন ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পূর্ণকালীন কর্মকর্তা হিসেবে কাজী ওয়াহিদ মোঃ সালেহ দায়িত্বে থাকলেও, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবে আশরাফুলই ছিলেন অলিখিত সর্বেসর্বা।

স্থানীয়দের দাবি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি একরোখা ও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ​

​২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আশরাফুলের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর চাঁদাবাজির অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কেন্দ্র সচিব জানান, উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ৮টি কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রপ্রতি ৩৫-৪০ হাজার টাকা এবং ব্যক্তিগত ‘বখশিশ’ হিসেবে কেন্দ্রপ্রতি ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন তিনি। এছাড়া প্রশ্নপত্র বহন, শর্টিং এবং মতবিনিময় সভার নামেও প্রতিটি কেন্দ্র থেকে কয়েক হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার এই ‘দাবি’ পূরণে দ্বিমত করার সাহস পান না কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান। ​

​শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডির নাম করে চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭ হাজার, নাউরি আহমদিয়া থেকে ১৬ হাজার এবং জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪ হাজার টাকাসহ উপজেলার ৫১টি প্রতিষ্ঠানের টাকা কৌশলে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামেও চলছে হরিলুট। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রতি ৮ হাজার টাকা হারে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং সরকারি বরাদ্দসহ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার সিংহভাগই তিনি নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পকেটস্থ করেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। ​

​১০ম গ্রেডের একজন সহকারী কর্মকর্তা হয়েও আশরাফুল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৯টি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২৩টি বিদ্যালয়ের নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার হয়ে পছন্দের প্রার্থীকে জেতানো এবং ত্রুটি পুঁজি করে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পুরনো। নিয়োগ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তার কৌশল আরও বিচিত্র—একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে একজনের চাকরি নিশ্চিত করে বাকিদের টাকা ফেরত দিয়ে নিজেকে ‘সৎ’ প্রমাণের চেষ্টা করেন তিনি। ​

​আশরাফুল আলমের জীবনযাত্রাও প্রশ্নবিদ্ধ। ১০ম গ্রেডের কর্মচারী হয়েও তিনি ঢাকায় ৪৫ হাজার টাকা এবং মতলব উত্তরে ৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন। তার দপ্তরে নিজের নামের আগে ‘ভারপ্রাপ্ত’ লিখতে দেন না তিনি, এমনকি অনার বোর্ডেও ক্ষমতার জোরে পদবী বদলে ফেলেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ​

​উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল গনি তপাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মন্ত্রী পরিবারের দাপট দেখিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত একজন কর্মকর্তা কীভাবে ১৫-১৬ বছর একই স্টেশনে থাকেন?"

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল আলম মুঠোফোনে দায়সারাভাবে বলেন, "ভাই, কাজ করতে গেলে ভুলশুদ্ধ হতেই পারে। অনেকদিন তো আছি, এখন চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আপনারা লিখলে আমার কী করার আছে?"

​চাঁদপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ জানান, "উনার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ আমার জানা নেই। তবে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

​মতলবের শিক্ষা ব্যবস্থাকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচাতে এই ‘প্রভাবশালী’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ চান স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবক সমাজ।


চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ০৩-০৫-২০২৬ ০৫:০০ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 27 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া