স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে ৫ তলা পর্যন্ত ভবন দৃশ্যমান হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা বাজার এলাকায় ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে মাত্র ৪০০-৫০০ ফুট দূরত্বে সরকারি সম্পত্তির ওপর ভবন নির্মাণ করছেন খোকন দেবনাথ নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ী। পূর্বে সেখানে ‘দেবনাথ ফার্মেসি’ নামে একটি দোকান থাকলেও বর্তমানে তা সম্প্রসারণ করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ১৪০ নম্বর রূপসা মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৩২৪২ দাগে উক্ত জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত। জমিটি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য খোকন দেবনাথ ও তার স্ত্রী চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথকভাবে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ভূমি কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারি জমি বাদ দিয়ে নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি জমির ওপরই ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন খোকন দেবনাথ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভবন নির্মাণের আগে কোনো ধরনের মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করা হয়নি।
তারা প্রশ্ন তোলেন, ভূমি অফিসের এত কাছাকাছি সরকারি জমিতে কীভাবে এমন বড় স্থাপনা গড়ে উঠছে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে খোকন দেবনাথ বলেন, তিনি প্রায় এক শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন। আগে থেকেই সেখানে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটির সঙ্গেই সংযুক্ত করে নতুন ভবন করা হচ্ছে। সয়েল টেস্ট না করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।” সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তিনি নিজস্ব জমিতেই কাজ করছেন এবং ভূমি অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছেন।
এদিকে, রূপসা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তকে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। তিনি জানান, অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গত ১২ এপ্রিল লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.আর.এম জাহিদ হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে খোকন দেবনাথকে তার নিজস্ব জমিতে সংস্কার কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, তিনি সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন এবং নির্মাণবিধিও লঙ্ঘন করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দখলদারিত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক