ফরিদগঞ্জের ধানুয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ কাটতে গিয়ে অবরুদ্ধ পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা
২৯ জুন, ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন

  

ফরিদগঞ্জের ধানুয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ কাটতে গিয়ে অবরুদ্ধ পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা

চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক
২৯-০৬-২০২৬ ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
ফরিদগঞ্জের ধানুয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ কাটতে গিয়ে অবরুদ্ধ পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা

আবারো পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীরা অবরুদ্ধ হয়েছেন। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে এর সামধান হয়। রোববার (২৮ জুন ২০২৬) সকালে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব ধানুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে বিক্ষুব্ধ লোকজন কর্তৃক বিদ্যুতের সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুতের লাইনম্যানকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মামলার অভিযুক্তসহ এলাকার লোকজনের ঘরের বিদ্যু সংযোগ কাটতে গিয়ে পুনরায় অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এবং পুনরায় ওই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বাধ্য হন। এদিকে বিদ্যুৎ কর্মীরা অযথা গ্রাহকদের হাতে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাসহ নানা অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যু সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সাইফুল আলমকে দায়ী করে তার অফিসে তাকেই অবরুদ্ধ করে রাখেন।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার) ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব ধানুয়া গ্রামের লোকজনের সাথে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণ ও তিন মাস পর বিদ্যুৎ বিলের কাগজ একবারে দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে মুঠোফানে কথা কাটাকটি হয় বিদ্যুতের লাইনম্যানের সাথে। পরে নয়াহাট এলাকায় অবস্থিত বিদ্যুতের সাবস্টেশন থেকে ওই লাইনম্যানকে উঠিয়ে নিয়ে পূর্ব ধানুয়া গ্রামের বিক্ষুব্ধ লোকজন অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণমান্যরা তা মীমাংসা করে দিয়ে ওই লাইনম্যানকে নিয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনায় পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ওই রাতেই পূর্ব ধানুয়া গ্রামের বেশ কিছু বিদ্যুৎ গ্রাহকের নামে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় প্রথমে ডিজিএম নিজে থানায় লিখিত দিয়ে এবং পরে লাইনম্যান আব্দুল কাদিরকে দিয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রোববার (২৮ জুন ২০২৬) সকাল থেকে পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা ওই সব গ্রাহকসহ এলাকার লোকজনের বিদ্যুতের লাইন বিছিন্ন শুরু করেন। এতে স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় বিদ্যুতের লোকজন এলাকার নারীদের সাথেও তাদের খারাপ আচরণ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
 
একপর্যায়ে বিদ্যুতের কর্মীদেরকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন অবরুদ্ধ করে রাখে। সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন এবং পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনাপূর্বক এর সমাধান করেন।
 
উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিদ্যুতের সংযোগ বিছিন্নকৃত লাইনগুলো পুনরায় চালু করার পর পল্লীবিদ্যুতের লোকজন অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হন এবং এলাকা ত্যাগ করেন।

ধানুয়া গ্রামের জাফর, ওমর ফারুক, ফিরোজা বেগমসহ লোকজন জানান, বিদ্যুতের লোকজনের সাথে ওই দিনের ঘটনা বসে সমাধান হলেও উল্টো তারা আমাদের নামে মামলা দিয়েছে। রোববার দিন তারা ২০/৩০জন লোক নিয়ে এসে আমাদের লোকজনের মিটার থেকে সংযোগ কাটতে শুরু করে। এত বাধা দিলে তাদের সাথে আমাদের ধস্তধস্তি হয়। তারা আমাদের মা-বোনদের ওপর রড দিয়ে হামলা করে ও মারধর করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা একপর্যায়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান এসে বসে এর সমাাধান করে দেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর পল্লী বিদ্যুতের আইনানুযায়ী তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করার বিধান রয়েছে। সেই মোতাবেক রোববার ধানুয়া গ্রামে বিদ্যুতের লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে যান। সেখানে তারা অবরুদ্ধ হন।

অন্যদিকে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জি এম মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ধানুয়া গ্রামে বকেয়া বিদ্যুতের টাকা আদায়ে বিদ্যুতের লোকজনের যাওয়ার কথা।

গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ জানান, গত কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ এই এলাকার লোকজন পাননি। চলতি মাসে একসাথে বিদ্যুৎ বিভাগ জরিমানাসহ তিনমাসের বিল পাঠায়। যাতে লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাছাড়া ভয়াবহ লোডশেডিংতো রয়েছেই। এসব কারণে দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছি। রোববারের ঘটনাটি সমাধান করে বিদ্যুতের সংযোগ পুনরায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে নিরাপদে যেতে দেয়া হয়েছে। পুলিশ সার্বিক সহযেগিতা করেছেন।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহ্ বলেন, ধানুয়া গ্রামে বিদ্যুতের লাইন কাটা নিয়ে সৃষ্ট ঘটনা শুনে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

এদিকে এই ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা ডিজিএম সাইফুল আলমকে নিজের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, গত ক'দিনে গ্রাহকদের সাথে সৃষ্ট ঘটনার জন্যে ডিজিএম এককভাবে দায়ী। তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে লোকজন আমাদের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ পেয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জি এম মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় তিনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয় ডিজিএমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন।

ছবির ক্যাপসন ১। ফরিদগঞ্জের ধানুয়া এলাকার গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার পর তাদের বিদ্যুতের সংযোগ কাটতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে অবরুদ্ধ হয় পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা ।

২। ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নিজের অফিসে বিদ্যুতের কর্মীদের হাতে অবরুদ্ধ হওয়ার দৃশ্য।


চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ২৯-০৬-২০২৬ ০১:১৫ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 29 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া