শিরোনামঃ
অনলাইন ডেস্ক ২০-০৮-২০২৬ ০২:৩২ অপরাহ্ন |
উপজেলার চরভৈরবীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বর্ষার শুরুতেই হোগলা গাছে ফুল আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকায় দুর্গম চরে গিয়ে এসব ফুল সংগ্রহ করেন। পরে বাড়িতে এনে কয়েক দিন রোদে শুকানো হয়। শুকিয়ে যাওয়া ফুল চট বা বড় পাত্রে রেখে আলতোভাবে আঘাত করলে তা থেকে সূক্ষ্ম গুঁড়া বের হয়। এরপর চালনিতে ছেঁকে প্রস্তুত করা হয় হোগল গুঁড়া।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হোগল গুঁড়ার সঙ্গে দুধ, নারকেল এবং গুড় বা চিনি মিশিয়ে সুস্বাদু পায়েস ও ফিরনি তৈরি করা যায়। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও বাড়ে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি হোগল গুঁড়া প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চরভৈরবী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “চর থেকে হোগলা ফুল সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট হয়। শুকানো ও গুঁড়া তৈরিতেও যথেষ্ট শ্রম দিতে হয়। তবে ভালো দাম পাওয়ায় এই কাজ থেকে আমাদের পরিবারের বাড়তি আয় হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “হোগল গুঁড়া দিয়ে তৈরি খাবার এ অঞ্চলের মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত। বিশেষ করে পারিবারিক আয়োজন ও মেহমানদারিতে এর ব্যবহার রয়েছে।”
তবে কৃষিজমিতে হোগলার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার নিয়ে সতর্ক করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা। হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার বলেন, হোগলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্য ফসলের জমি দখল করতে পারে। তাই ফসলি জমিতে পরিকল্পিতভাবে হোগলা চাষ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো হোগলা থেকে ফুল বা গুঁড়া সংগ্রহে কৃষি বিভাগের আপত্তি নেই। তবে কৃষিজমিতে এর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ঠেকানো জরুরি।
স্থানীয়দের মতে, হোগল গুঁড়া শুধু একটি মৌসুমি খাবারের উপকরণ নয়, এটি হাইমচরের চরাঞ্চলের লোকজ ঐতিহ্যেরও অংশ। বর্ষায় কৃষিকাজের ব্যস্ততা কমে এলে হোগলা সংগ্রহ ও গুঁড়া বিক্রি অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া