নিজের কিডনি দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী আকলিমা
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ন

  

নিজের কিডনি দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী আকলিমা

চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক
২৩-০৮-২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন
নিজের কিডনি দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী আকলিমা

​স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের শরীর থেকে একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিঃসংকোচে। সফল অস্ত্রোপচার শেষে বাঁচার নতুন আশাও জেগেছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রিয়তম স্বামীকে আর রক্ষা করা সম্ভব হলো না। ভালোবাসার এমন এক বিরল ও করুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃহবধূ আকলিমা বেগম (২৬)। ​মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ রূপসা গ্রামের পাঠান বাড়িতে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবাসফেরত দেলোয়ার হোসেন (৪২) দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁর দ্রুত কিডনি সংযোজনের তাগিদ দেন। স্বামীর এই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দিতে এগিয়ে আসেন দুই সন্তানের জননী আকলিমা।

​গত ১৪ আগস্ট ঢাকার শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চিকিৎসকদের সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আকলিমার কিডনি দেলোয়ারের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দুই দিন শারীরিক উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও তৃতীয় দিন থেকে তাঁর শরীরে বহুমুখী ডায়াবেটিস ও রক্তচাপজনিত তীব্র জটিলতা দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেলোয়ার। ​এই দম্পতির ঘরে আফরিন জান্নাত ইরা (১১) ও আশুরা জাহান ইভা (৪) নামের দুটি অবুঝ কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার অকালমৃত্যু আর অসুস্থ মায়ের আহাজারিতে পুরো পরিবারে এখন মাতম চলছে।

​নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, "আমার ছোট ভাইয়ের বউ আকলিমা নিজের অঙ্গ বিসর্জন দিয়ে ভালোবাসার চরম দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর প্রথমে আমরা তাঁকে জানাতে চাইনি। কিন্তু শোকার্ত আকলিমা তা জানার পর থেকে এখন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছে। তাঁর নিজের শরীরও এখন বেশ সংকটজনক।"

​আক্ষেপ ও কান্নায় ভেঙে পড়ে দেলোয়ারের বৃদ্ধা মা শামছুন্নাহার বলেন, "নিজের কিডনি দিয়েও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারল না আকলিমা! এখন আমার এই নিরাশ্রয় পুত্রবধূ নিজেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। দুটি অবুঝ এতিম শিশু আর অসুস্থ বৌটির চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।"

​ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহির হোসেন জানান, আকলিমার এই আত্মত্যাগ চিরকাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর এই চরম ত্যাগের সাক্ষী হলো পুরো এলাকা, যা এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে জনপদে। ​

এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ২৩-০৮-২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 28 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া