হাইমচরে নিলাম ছাড়াই সরকারি ঘেরের মাছ বিক্রির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে আদালতের রিসিভার ওসি
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২১ অপরাহ্ন

  

   শিরোনামঃ

হাইমচরে নিলাম ছাড়াই সরকারি ঘেরের মাছ বিক্রির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে আদালতের রিসিভার ওসি

কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি
২৫-০৮-২০২৬ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
হাইমচরে নিলাম ছাড়াই সরকারি ঘেরের মাছ বিক্রির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে আদালতের রিসিভার ওসি
চাঁদপুরের হাইমচরে আদালতের নির্দেশে সরকারি একটি মৎস্য ঘেরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোনো উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই ঘের থেকে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মাছ আহরণ করে বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, পোনা মাছের পরিমাণ পরীক্ষা করতে জাল ফেলা হয়েছিল এবং পাওয়া মাছ কমিটির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।

ঘটনাটি হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝের চরের একটি সরকারি মৎস্য ঘেরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘেরটির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ালে সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাইমচর থানার ওসিকে মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানিতে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের উপস্থিতিতে জেলেদের দিয়ে ঘেরে জাল ফেলা হয়। এ সময় আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ মণ মাছ আহরণ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, ওই মাছের বাজারমূল্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা হতে পারে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি সম্পত্তির মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নিলাম আয়োজন এবং বিক্রিলব্ধ অর্থ যথাযথ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো নিলামের বিজ্ঞপ্তি, দাপ্তরিক অনুমোদন বা অর্থ জমা দেওয়ার তথ্য তাঁরা জানতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘেরে কী পরিমাণ পোনা মাছ রয়েছে, সেটি পরীক্ষা করার জন্য জাল ফেলা হয়েছিল। এতে সামান্য কিছু মাছ পাওয়া যায়। পরে কমিটির মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।

তবে বিক্রির অর্থ এখনো সরকারি কোনো হিসাবে জমা হয়নি বলে জানান তিনি। কী কারণে অর্থ জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে এবং কোন কমিটির সিদ্ধান্তে মাছ বিক্রি করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “মাছ বিক্রির বিষয়ে কোনো নিলামের অফিশিয়াল চিঠি বা দাপ্তরিক তথ্য আমার কার্যালয়ে আসেনি। মাছ বিক্রি হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোন কোষাগারে জমা হয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, আহরণ করা মাছের প্রকৃত পরিমাণ ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং বিক্রিলব্ধ অর্থের হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি ২৫-০৮-২০২৬ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 26 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  ঠিকানা :   চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   chandpurbulletin@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া