শিরোনামঃ
কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি ০৩-০৯-২০২৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন |
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তর থেকে গত ৩১ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় বদলি করা হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারক নং—৪৬.০২.০০০০.০০১.১৯.১০৩.২২-৯৫৩৫-এর প্রজ্ঞাপনে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, মসজিদ, কালভার্ট ও গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও কমিশন ছাড়া বিল ছাড় করা হতো না।
‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’-এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি। পরে ২৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন সরেজমিন তদন্তে গেলে প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন নিজ এলাকার কয়েকজন পরিচিত ঠিকাদারকে এনে নিজের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত চলাকালে লক্ষ্মীপুর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) নির্মাণাধীন ভবনের কাজ নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেলের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও জুন ক্লোজিংয়ের সময় প্রকল্পটির শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্মাণকাজে পুরোনো রড ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিজ জেলায় পদায়নের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন লক্ষ্মীপুরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সদর উপজেলার পাশাপাশি রায়পুর ও চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তার প্রভাব বিস্তার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে তাকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
‘শুধু বদলি নয়, জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে’ ইকবাল হোসেনের বদলির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সচেতন নাগরিকেরা। তবে শুধু বদলি নয়, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, “শুধু বদলি করলেই হবে না। কাজ অসম্পূর্ণ রেখে শতভাগ বিল পরিশোধ এবং কমিশন বাণিজ্যের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যেন কোনোভাবেই ধামাচাপা না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে বদলির বিষয়ে এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বদলির আদেশের পর অভিযোগগুলোর প্রশাসনিক ও বিভাগীয় তদন্তে কী ধরনের অগ্রগতি হয় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় কি না—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া