শিরোনামঃ
কাউসার খান, বিশেষ প্রতিনিধি ০৯-০৯-২০২৬ ০৪:৩১ অপরাহ্ন |
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু তিনটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। আদালতগুলো হলো—চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকরা হলেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ শম্পা ইসলাম।
সভায় অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট বিচারকদের সঙ্গে আইনজীবীদের সমন্বয়হীনতা দীর্ঘদিনের। বিষয়গুলো নিয়ে আইনজীবী সমিতির নেতারা একাধিকবার মৌখিকভাবে অবহিত করলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি।
তিনি দাবি করেন, বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কারণে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সমিতি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু ওই তিনটি আদালত নয়, আরও কয়েকটি আদালত এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতেও আইনজীবীদের সঙ্গে ‘শিক্ষক-ছাত্রের মতো’ আচরণ করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও আইনজীবীদের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে সভায় অভিযোগ তোলা হয়।
সমস্যাগুলো সমাধানে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী সমিতির সভাপতি। একই সঙ্গে আইনজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।
জরুরি সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী সাত দিন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের দপ্তর থেকে মামলার কপি সংগ্রহের জন্য কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। আদালতের পেশকারসহ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন আচরণে আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে অসম্মানিত হচ্ছেন বলেও সভায় অভিযোগ করা হয়।
অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, স্থানীয়ভাবে সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে লিখিতভাবে অভিযোগ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে বার কাউন্সিলকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে কোনো আইনজীবী কিংবা তাদের সহকারী সংশ্লিষ্ট আদালতে কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কোহিনুর রশিদ, জিপি এজে এম রফিকুল হাসান রিপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কোহিনুর বেগম, সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল বিন বাশার, সেলিম আকবর, আহছান হাবীব, একিউএম মোস্তফা কামাল, আবুল খায়ের মো. সালেহ, সাবেক পিপি আমান উল্যাহ (১) ও মো. জসিম মেহেদী।
এ ছাড়া আইনজীবীদের মধ্যে জাকির হোসেন, তাফাজ্জল হোসেন, মহসিন খান, সলিম উল্যাহ সেলিম, বাপ্পি, আলম খান মঞ্জু, আব্দুল লতিফ শেখ, শাহ আলম ফরাজী, নাইমুল ইসলাম, আক্তার সরকার, কামাল উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোস্তফা, গাজী দুলাল ও সাদ্দাম হোসেন বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিচারপ্রার্থীদের আইনি সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনজীবীদের হয়রানি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বিচারকদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে চান বলেও জানান তারা।
তবে সভায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন বিচারক কিংবা আদালত প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া