চাঁদপুর পৌরসভার ১০৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনসহ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে চিকিৎসালয়টির জরাজীর্ণ অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করা এবং চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।
পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ভবনটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন চিকিৎসক পাওয়া গেলেই চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল খান জানান, হঠাৎ করে চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলসহ আশপাশের গরিব রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছিলেন। বন্ধের সময় অনেক অসহায় রোগী এসে সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। গরিব মানুষের জন্য এই চিকিৎসালয়টি ছিল শেষ ভরসা। এখান থেকে বিনামূল্যে ও নামমাত্র মূল্যে ওষুধ পেয়ে অনেক মানুষ উপকৃত হতেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন পর পৌরসভা নতুন করে চিকিৎসালয়টি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়রা আশার আলো দেখছেন। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে চিকিৎসাসেবা চালু হলে দরিদ্র মানুষের শারীরিক ও আর্থিক দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে দাতব্য চিকিৎসালয়টি সুদীর্ঘ সময় ধরে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। মাঝে কিছু কারিগরি ও জনবল সমস্যার কারণে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে আমরা এখন এটি দ্রুত পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি আরও জানান, পুরানবাজার এলাকার পাঁচটি ওয়ার্ডের পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষও যাতে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পান, সেই লক্ষ্যেই এটি চালু করা হচ্ছে। চিকিৎসালয়ের জন্য ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ভবন সংস্কার ও নতুন চিকিৎসক যোগ দিলেই স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হবে।
পৌর প্রশাসক জানান, পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনটিকে ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের মহাপরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভার পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হবে ।
ফয়েজ আহমেদ