শিরোনামঃ
ফয়েজ আহমেদ ১৪-০৯-২০২৬ ০৩:৫০ অপরাহ্ন |
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী গ্রামে মধ্যরাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সম্প্রতি মাদক কারবার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য , নারী, কিশোরীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ফরিদগঞ্জের গুপ্টি (পূর্ব) ইউনিয়নের মানুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পূর্ব মানুরী ঠাকুর বাড়ির ফারুক, হাছানসহ এলাকার আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন চুরি এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ পেটানোর অভিযোগ আছে। সম্প্রতি আসামি ছিনতাই ও পুলিশ পেটানোর মামলায় তারা বেশকিছুদিন জেলও খেটেছে।
এলাকাবাসীর চাপে ঠাকুর বাড়ির লোকজন সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে গত শুক্রবার ফারুক ও হাছানকে মাদক ব্যবসা
ছাড়তে অথবা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার মধ্যরাতে পশ্চিম মানুরী বৈদ্যের বাড়ির কাউসার বৈদ্যের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ঠাকুর বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
কাউসার বৈদ্যের নেতৃত্বে হামলাকারীদের মধ্যে ছিল এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি ও পুলিশ পেটানো মামলায় জেলখাটা আসামি ঠাকুর বাড়ির ফারুকসহ পশ্চিম মানুরী বৈদ্যের বাড়ির আশেক আলীর ছেলে বিল্লাল ও হৃদয়, পাঠান বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে রাফি, মিজানের ছেলে মাসুদ, দিদার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে মোমিন, জলিল মাস্টার বাড়ির তানভীর, খাদাম বাড়ির হোসেনসহ আরও ৭/৮ জন।
হামলার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীদের বাঁচাতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন ইউপি সদস্য ও পশ্চিম মানুরী বৈদ্যের বাড়ির আল-আমিন মেম্বার। এ ঘটনায় অন্য আহতরা হলেন, ঠাকুর বাড়ির আজাদ, তার স্ত্রী সাথী, তাদের ১১ বছরের কন্যা রিয়া, জাহাঙ্গীরের ছেলে আরমান, একই বাড়ির রহিম, মানিক, আরিফ, সেলিমসহ আরও কয়েকজন।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ আসে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই পুলিশ আসার খবর পেয়ে অস্ত্র নিয়ে সরে যায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
আজাদের স্ত্রী সাথী বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১১টা-পৌনে ১২টার দিকে বৈদ্যের বাড়ির কাউসারের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়। তারা অন্যদের সঙ্গে আমার স্বামী আজাদকে মারতে থাকে। আমি আর আমার মেয়ে তাকে (আজাদ) বাঁচানোর চেষ্টা করলে কাউসার এবং আরও কয়েকজন আমার মেয়ে (রিয়া) এবং আমাকেও মারধর করে।’
ঠাকুর বাড়ির আজাদ বলেন, শুক্রবার বাড়ির সবাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফারুক ও তাদের পরিবারকে মাদক ছাড়ার জন্য চাপ দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা শনিবার আমাদের বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
আল-আমিন মেম্বার জানান, ঠাকুর বাড়ির লোকজনের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেও মারধরের শিকার হয়েছেন।
অভিযুক্ত কাউসার বৈদ্য বলেন, ‘শনিবার ঘটনার সময় তিনি দোকানের কাছে ছিলেন। অনেক মানুষ ঠাকুর বাড়ির দিকে যাচ্ছে দেখে তিনিও যান। তবে তার কোনো লোক সেখানে মারামারি করেননি। মূলত ঘটনা হচ্ছে অটোচালক মানিকের সঙ্গে ফারুকের। মানিক ফারুকের বাড়ির গেট খুলে নিয়ে গেছে। আর আমি কোনো কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেই না। আমার যারা ছোট ভাই তাদেরকে আদর স্নেহ করি। মূলত আমি সংসদ সদস্য এমএ হান্নানের নির্বাচনের করার কারণে এলাকায় কেউ কেউ ভুল তথ্য দিচ্ছে।’
ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. হেলাল বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে বলেছি থানায় এসে অভিযোগ দেয়ার জন্য। ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। কেউ এখন পর্যন্ত থানায় এসে অভিযোগ দেয়নি। থানা থেকে ওই এলাকার দূরত্ব অনেক বেশি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া