শিরোনামঃ
চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ১৯-০৯-২০২৬ ০২:৩৭ অপরাহ্ন |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় (আর্কাইভ) পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও জামায়াত-সংশ্লিষ্ট নেতার ছবি স্থাপন এবং ধারাবাহিক প্রতিবাদের ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে এক মৌলিক প্রশ্ন—ইতিহাস কি প্রতীকী ছবি দিয়ে বিচার্য, নাকি পূর্ণাঙ্গ দলিল ও প্রেক্ষাপটের পাঠে?
সংস্কারকাজ শেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ডাকসু আর্কাইভ উন্মুক্ত করা হয়। সেখানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি এবং কিছু পুরোনো সংবাদপত্রের প্রতিবেদন স্থান পায়।
প্রতিক্রিয়া: ১৪ সেপ্টেম্বর এক সাবেক শিক্ষার্থী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর একদল শিক্ষার্থী ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি রেখে প্রতিবাদ জানান।
মূল সংকট: ঘটনাটি নিছক ছবি রাখা বা সরানোর নয়; বরং ঐতিহাসিক চরিত্রদের বিতর্কিত ভূমিকা এবং তা উপস্থাপনের মানদণ্ড নিয়ে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন।
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, ছবি ছিঁড়ে ফেলা বা প্রতীকী প্রতিবাদ ইতিহাসের সমাধান নয়। নিরপেক্ষ আর্কাইভের মূলনীতি হওয়া উচিত পূর্ণাঙ্গ সত্য উন্মোচন:
জিন্নাহর প্রসঙ্গ: ১৯৪৮ সালের গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাংলার স্বীকৃতি প্রস্তাব, মার্চ মাসে ঢাকায় জিন্নাহর উর্দুপক্ষীয় অবস্থান এবং ছাত্রসমাজের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া—এই ধারাবাহিকতার পূর্ণ নথি থাকা প্রয়োজন। পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এক দিনে তৈরি হয়নি।
১৯৭১ ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা: ১৯৭১ সালে দলটির স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক নথি অনস্বীকার্য। একই সঙ্গে দলটির প্রয়াত নেতা আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথায় অভ্যন্তরীণ ক্ষমা চাওয়ার খসড়া উদ্যোগের (২০১৬) মতো অভ্যন্তরীণ বিতর্কের তথ্যও ইতিহাসের অংশ।
২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের বড় জয় বর্তমান ছাত্ররাজনীতির একটি বাস্তব চিত্র। তবে রাজনৈতিক নির্বাচনী ফলাফল ইতিহাসের সত্যকে বাতিল করে না বা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি সদস্যের অবস্থানকে এক ছাঁচে ফেলে না।
তর্ক-বিতর্কের বদলে তরুণদের সামনে ১৯৪৮-এর বক্তব্য, ভাষা আন্দোলনের দলিল, মুক্তিযুদ্ধের প্রচারপত্র, ট্রাইব্যুনালের রায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান উন্মুক্ত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে—যাতে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে।
রাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানও হতে পারে; কিন্তু তার সঙ্গে ১৯৭১-এর ইতিহাস অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
আর্কাইভ কোনো পক্ষের প্রচারমঞ্চ বা ইতিহাস মুছে ফেলার ভুঁইফোড় জায়গা নয়। ছবি রাখা না-রাখার বিতর্কের চেয়ে বড় কথা—থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দলিল থাকতে হবে। কারণ বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস কোনো দেয়ালে ঝোলানো ছবি নয়, এটি ভাষা আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, রক্ত ও আত্মত্যাগের অবিচল দলিল।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া