শিরোনামঃ
চাঁদপুর বুলেটিন ডেস্ক ০৫-১০-২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ন |
লিখেছেন: আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব
কেউ ঘুরেছেন ১০ জেলা, কেউ ৩০, আবার কারও ভ্রমণের তালিকায় রয়েছে দেশের প্রায় অর্ধেক জেলা। এতদিন ভ্রমণের স্মৃতি ছবি কিংবা ডায়েরির পাতায় সংরক্ষিত হলেও এবার সেই অভিজ্ঞতা জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্রে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নিজের ঘুরে আসা জেলাগুলো বিভিন্ন রঙে চিহ্নিত করে ‘ট্রাভেল ম্যাপ’ তৈরির নতুন প্রবণতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেকেই নিজেদের তৈরি ট্রাভেল ম্যাপ প্রকাশ করছেন। মানচিত্রে যেসব জেলা ভ্রমণ করা হয়েছে, সেগুলো আলাদা রঙে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কতটি জেলা ভ্রমণ করা হয়েছে এবং ৬৪ জেলার মধ্যে আর কতটি জেলা বাকি—সেটিও তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে একটি মানচিত্র দেখেই একজন ব্যক্তির ভ্রমণের পরিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
এই ট্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা নিয়ে তৈরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘Unseen Bangladesh’। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ভ্রমণ করা জেলাগুলো নির্বাচন করে নিজেদের ব্যক্তিগত ভ্রমণ মানচিত্র তৈরি করতে পারেন। সেখানে আট বিভাগের ৬৪ জেলার তালিকা থেকে পছন্দের জেলা নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে। এরপর নির্বাচিত জেলাগুলো মানচিত্রে আলাদা রঙে ফুটে ওঠে।
ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এর আকর্ষণের অন্যতম কারণ হলো—এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং ব্যক্তিগত ভ্রমণের দৃশ্যমান হিসাব। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো একজন মানুষ এক নজরেই দেখতে পারছেন তাঁর ভ্রমণ কোন কোন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। একই সঙ্গে যে জেলাগুলো এখনো ভ্রমণ করা হয়নি, সেগুলোও সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাভেল ম্যাপ প্রকাশের ফলে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি বিষয়—পারস্পরিক অনুপ্রেরণা। একজনের মানচিত্র দেখে অন্যজন নিজের ভ্রমণের হিসাব মিলিয়ে দেখছেন। কারও ম্যাপে কম জেলা থাকলে নতুন জায়গা ঘুরে দেখার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে; আবার কেউ বেশি জেলা ঘুরে থাকলে তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হয়ে উঠছে অবশিষ্ট জেলাগুলো।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর ভ্রমণ সংস্কৃতি ইতোমধ্যে বেশ দৃশ্যমান। ছবি, ভিডিও ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন গন্তব্য সম্পর্কে জানা এখন অনেক সহজ। সেই ধারাবাহিকতায় ট্রাভেল ম্যাপ ভ্রমণকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একটি দৃশ্যমান ডিজিটাল পরিচয়ে পরিণত করছে।
ট্রাভেল ম্যাপ তৈরির প্ল্যাটফর্মটিতে শুধু জেলা চিহ্নিত করার সুযোগই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কেও তথ্য রয়েছে। ৬৪ জেলার ২৪০টির বেশি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে তথ্য, যাতায়াত, সম্ভাব্য খরচ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ভ্রমণ ম্যাপ তৈরির পাশাপাশি নতুন গন্তব্য খুঁজে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যায়।
তবে ট্রাভেল ম্যাপে কোনো জেলা চিহ্নিত করলেই যে ওই জেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করা হয়েছে—এমনটি বোঝায় না। সাধারণত একটি জেলা ভ্রমণ করা হয়েছে কি না, সেই হিসাবই এখানে প্রকাশ পায়। ফলে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যটন পরিসংখ্যান নয়; বরং ব্যক্তিগত ভ্রমণের একটি ডিজিটাল নথি।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। কারণ একটি জেলার নাম শুধু তালিকায় দেখার পরিবর্তে মানচিত্রে সেটির অবস্থান ও ভ্রমণের বিস্তৃতি দৃশ্যমান হলে মানুষের মধ্যে নতুন জায়গা দেখার কৌতূহল তৈরি হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভ্রমণ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি, অতিরিক্ত ভিড় কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অসতর্কতার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে রয়েছে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর, বনাঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনার বৈচিত্র্য। ৬৪ জেলার প্রতিটির রয়েছে আলাদা ভূপ্রকৃতি ও সংস্কৃতি। ট্রাভেল ম্যাপের মাধ্যমে সেই বৈচিত্র্যের কতটুকু একজন মানুষ নিজের চোখে দেখেছেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র ফুটে উঠছে।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ট্রেন্ডকে শুধু ভাইরাল কনটেন্ট হিসেবে দেখার পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও তরুণদের ভ্রমণসংস্কৃতির পরিবর্তনশীল একটি চিত্র হিসেবেও দেখা যায়। আজকের ভ্রমণের স্মৃতি যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও হয়ে জমা হচ্ছে, সেখানে ট্রাভেল ম্যাপ সেই স্মৃতিগুলোকে একত্র করে দিচ্ছে একটি মানচিত্রে।
ঠিকানা : চাঁদপুর বুলেটিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: পৌর মার্কেট (দ্বিতীয় তলা), হাজী মহসিন রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর (পূবালী ব্যাংকের সামনে)।
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : chandpurbulletin@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলআমিন ভূঁইয়া